নিয়োগের জন্য নয়, ধার হিসেবে টাকা নিয়েছিলাম: রাবি শিক্ষক আব্দুল হান্নান

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আব্দুল হান্নানরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগের মুখে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, চাকরিপ্রত্যাশি নুরুল হুদার কাছ থেকে তিনি দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন, তবে তা নিয়েছিলেন ধার হিসেবে। নিয়োগের ভাইভা বোর্ড গঠিত হওয়ার আগেই তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আজ মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

এ সংক্রান্ত একটি অডিও তিনি সাংবাদিকদের কাছে উপস্থাপন করেন। যেখানে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে একটি ছেলেকণ্ঠের কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। আব্দুল হান্নানের দাবি, ওই ছেলে কণ্ঠটি হচ্ছে নুরুল হুদা। অডিও রেকর্ডিংয়ে শোনা যাচ্ছে ছেলে কণ্ঠ আব্দুল হান্নানকে বলছে, ‘আপনি যে টাকা ধার নিয়েছিলেন সেটি আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে দিয়েছি। শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে টাকা শিগগিরই ফেরত দিতে চাই।’ ওপাশ থেকে আব্দুল হান্নান বলেন, ‘কবে তোমার টাকা প্রয়োজন। সোমবার-মঙ্গলবার টাকা ফেরত দেবো।’

তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি জামায়াতপন্থী এ শিক্ষক। সামনে নিয়োগের ভাইবা রয়েছে বিষয়টি জেনেও কেন আপনি টাকা নিলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের জায়গা থেকে টাকা নিয়েছি।’

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে একজন শিক্ষক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটি কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়। যৌথ চলতি অ্যাকাউন্ট। প্রথমে আমার নামে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে তা মো. সাইফুল ইসলাম ও আমার যৌথ নামে চলে। আমাদের দুই জনের ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ ও অন্যান্য উৎস থেকে নেওয়া টাকা লেনদেনের সুবিধার জন্য এটি খোলা হয়।’

তবে উল্লেখ্য, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে ‘ডিসেন্ট ট্রেডার্স’কে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করেন।

অধ্যাপক হান্নান বলেন, ‘মাননীয় প্রো-ভিসি ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়ার দেওয়া বিবৃতি ও সাংবাদিক সম্মেলনে রাখা বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে আইন বিভাগসহ আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেবো।’

প্রসঙ্গত, ৩০ সেপ্টেম্বর রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়ার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। যেখানে উপ-উপাচার্য সাদিয়া সম্বোধন করে একটি মেয়ের সঙ্গে কথা বলছেন। মেয়েটির সঙ্গে নূরুল হুদা নামে একজনকে চাকরি নিয়ে দর কষাকষি করতে শোনা গেছে উপ-উপাচার্যকে। এরপর থেকে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, ফাঁস হওয়া রেকর্ডটি আংশিক ও খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে। এই অবস্থায় তিনি ৩ অক্টোবর তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ছাত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে যে টাকার বিষয়ে কথা হয়েছিল, সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান নিয়েছিলেন। 

আরও পড়ুন- 

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম: ‘উপ-উপাচার্যের বক্তব্য মিথ্যা ও বানোয়াট’