যশোরের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। আজ ২৯ অক্টোবর দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তার বিষয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া সুমন বিভিন্ন নামে পরিচিত। সুমন আর্মি, সুমন হাসান, সুমন মোল্যা, আশরাফুল ইসলাম এসব নামে তাকে ডাকা হয়। যশোরের বাঘারপাড়া থানার একটি মামলায় গ্রেফতার করার পর পুলিশ জানতে পারে তার বিরুদ্ধে এমন কমপক্ষে ২০টি ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এডিশনাল এসপি মো. তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতার আশরাফুল মোল্যা ওরফে সুমন আর্মি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, সে সেনাবাহিনীর অফিসার পরিচয় দিয়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২০টি মেয়ের সঙ্গে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে সেগুলো ভিডিও করে। সবশেষ সেই ভিডিওকে পুঁজি করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে থাকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার মেমোরি কার্ডে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও রয়েছে।
তিনি জানান, ‘যশোরের বাঘারপাড়া থানায় গত ৩ অক্টোবর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামিকে ধরতে পুলিশের এসআই অরুণ কুমার দাস, এসআই শামিম হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম শংকরপুর এলাকার জনৈক রওশন আলীর বাড়িতে অভিযান চালান। ওই সময় তারা আশরাফুল মোল্যা ওরফে সুমন আর্মিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সুমন নড়াইল সদরের বোড়ামারা গ্রামের আকবর মোল্যা ও রাশিদা বেগমের ছেলে।
তার বিরুদ্ধে নড়াইল, রাজশাহী, যশোর কোতোয়ালি থানায় চারটি প্রতারণা ও ধর্ষণ মামলা রয়েছে।