বগুড়া শহর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েলকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নাশকতাসহ ১৫টির অধিক মামলার আসামি। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃত্বে অন্য দলের সাবেক নেতাকে বসানোয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির হাইকমান্ডের অনুমোদনেই এই কমিটি গঠিত হয়েছে। তাই আপত্তির কোনও সুযোগ নেই।
জানা গেছে, এর আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল ২১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি অনুমোদন করেন আগস্ট মাসে। সাবেক জামায়াত-শিবির নেতা জুয়েলের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের কথা জানাজানি হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। যার ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে এসে পুরনো নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আহ্বায়ক কমিটির অনেকেই শিবির থেকে আসা। জামায়াত নেতা জুয়েল সাত লাখ টাকা ডোনেশন দিয়ে বিএনপিতে ঢোকেন আর দ্বিগুণ টাকা দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলকে জামায়াত-শিবিরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই অনেক ত্যাগী নেতা সংগঠন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে কথা হয় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও নতুন আহ্বায়ক কমিটির দুই নম্বর সদস্য আবদুল গফুর দারা এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে। তারা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্তৃক ১৫ জুলাই স্বাক্ষরিত চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘কেউ পাঁচ থেকে সাত বছর দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। অথচ বগুড়া শহর জামায়াতের সেক্রেটারি এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে দেড় বছর আগে বিএনপির রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি স্থানীয় দায়িত্বশীল এক নেতাকে মোটা অঙ্কের ডোনেশন দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হয়েছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল। তিনি বলেন, ‘ভালোলাগা থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে এসেছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান খোঁজখবর নিয়ে এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। আর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সবাই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের, কেউ শিবির থেকে আসেনি। কমিটিতে সুযোগ না পেয়ে কেউ কেউ মিথ্যাচার করছেন।’
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যে যাই বলুক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বগুড়ার রাজনীতির সবকিছু দেখেন। তার অনুমতি ছাড়া কোনও কিছুই করা সম্ভব নয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অন্য দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের তালিকা পাঠিয়েছিলেন। আর তারেক রহমান সেই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমান জুয়েল ভালো ছেলে ও সাংগঠনিক। তাই এখানে কারও অসন্তুষ্টির কিছু নেই।’