পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

১৫ নভেম্বরের আগেই উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি আন্দোলনকারীদের

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে লালকার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভপাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি)উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় আজ (৭ নভেম্বর) ক্যাম্পাসে কোনও বিক্ষোভ হয়নি। বুধবার সপ্তম দিনের মতো দুপুর ১২টার পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে উপাচার্যকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন তারা। এ বিক্ষোভে সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও ছাত্রসাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই দাবি মেনে নেওয়ার আহ্ববান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ তুলে নেওয়াসহ প্রথমে চার দফা ও পরে ১২ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তারা। দাবি পূরণে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হলেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ না নেয়নি। তাই ৩০ অক্টোবর থেকে উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে এখন তারা আন্দোলন করছেন।

এর আগে, গত ২৬ অক্টোবর পাবিপ্রবির উপাচার্যের কাছে চাকরিপ্রার্থী এক যুবকের ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়। এ ঘটনায় ফেসবুকে মন্তব্য করায় তিন শিক্ষককে শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজপ্রাপ্ত তিন শিক্ষক অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রভাষক কামরুল হাসান কনক এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামাল হোসেনের শোকজ প্রত্যাহারের দাবিসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করেন তারা। শিক্ষার্থীরা ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দাবিগুলো হচ্ছে– সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া উপাচার্যের সঙ্গে নিয়োগপ্রার্থী যুবকের অডিওর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন; তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার; প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ; রিজেন্ট বোর্ডে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখা। 

দাবি পূরণে বেঁধে দেওয়া সময়সীমার চব্বিশ ঘণ্টা পরে ২৯ অক্টোবর চার দফা দাবি ১২ দফায় রূপান্তরিত হয়। তাদের ১২ দফা দাবির মধ্যে ছিল– সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া উপাচার্যের সঙ্গে নিয়োগপ্রার্থী এক যুবকের অডিওর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন; তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার; প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ; রিজেন্ট বোর্ডে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখা; ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য গবেষণা বরাদ্দ; খেলার মাঠ উন্নয়ন; শহীদ মিনার নির্মাণ; গরিব শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ বা বিনা বেতনে অধ্যয়ন; ছাত্র কল্যাণ ফান্ড গঠন; বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে পদায়ন; শিক্ষার্থীদের তথ্য সমৃদ্ধ যুগোপযোগী ওয়েবসাইট তৈরি; বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার ভাস্কর্য নির্মাণ।

আন্দোলন প্রসঙ্গে পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুব চৌধুরী আসিফ বলেন, ‘ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অভিযোগ উঠেছে নানা ঘটনা ঘিরে। এর কোনোটিই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটেনি। ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে সমর্থন জানিয়ে আন্দোলন করছে।’

গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানে সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখতে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে আজ মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ৪ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় শিক্ষক নেতারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে যেন শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত না হয়।’ শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তারা।

আন্দোলন প্রসঙ্গে পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে ডিন, প্রভোস্টসহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।’ বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগ দাবি করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রক্টর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে নিয়োগ দিয়েছেন। ভালো-মন্দ তারা দেখছেন, দেখবেন। এখানে আমার স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই আসে না।’

অন্যদিকে, ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা পাঁচ দফা দাবিতে কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে– কর্মচারীদের নিয়োগের কার্ড দ্রুত ছেড়ে চাকরি স্থায়ী করতে হবে; নীতিমালা সংশোধন কমিটি গঠন করে আগামী রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে; আপগ্রেডেশন প্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য দ্রুত আপগ্রেডেশন বোর্ডেও তারিখ নির্ধারণ করতে হবে; ছাত্র-ছাত্রী হলের কর্মরত কর্মচারীদের দ্রুত চুক্তিভিত্তিক/দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক ব্যবস্থা করতে হবে এবং কর্মচারী ক্লাব দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ বিষয়ে কর্মচারী পরিষদের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হলে আগামী শনিবার থেকে কর্মবিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’

আরও পড়ুন:  উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে লালকার্ড প্রদর্শন

                  পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষকদের মানববন্ধন

                  ফেসবুক পোস্টের জন্য পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে শোকজ: শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম