শতবর্ষী অসহায় বৃদ্ধার জোটেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড

মেহেরুন নেছাবয়সের ভারে নুয়ে পড়া শতবর্ষী বৃদ্ধা মেহেরুন নেছা। চলাচলের শক্তি হারিয়েছেন। চোখে ভালো দেখেন না। লাঠিতে ভর দিয়ে কখনও মানুষের বাড়িতে আবার কখনও দোকানে দোকানে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই অসহায় বৃদ্ধা। বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বরদের কাছে বারবার গেলেও তার ভাগ্যে জোটেনি এই কার্ড।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান কালিতলা হাইস্কুল এলাকার রুস্তুম মোল্লার স্ত্রী মেহেরুন নেছা। সংসারে একমাত্র ছেলে চোখে দেখেন না বলে কোনও কাজ করতে পারেন না। তাই নিজের পেটের ভাত জোটাতে ভিক্ষাই এখন একমাত্র পথ এই শতবর্ষীর।

গত শুক্রবার স্থানীয় মিরপুর বাজারে ভিক্ষা করতে আসলে কথা হয় মেহেরুন নেছার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স প্রায় একশ’র বেশি। আমি সরকারি কোনও ভাতা পাই না। ভাতার কার্ডের জন্য দিনের পর দিন স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কিন্তু কার্ড পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসারে এক ছেলে রয়েছে তবে সেও চোখে দেখে না। নিজের পেটের ভাত জোটাতে ভিক্ষা করি। ভিক্ষা করে খাবার ছাড়াও ওষুধপত্রও কিনতে হয়।’

কার্ড না হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় মেম্বর মো. উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাদের কাছে ভাতার কার্ডের বরাদ্দ অনেক কম। অনেক সময় কার্ডের জন্য সুপারিশ করা হলেও স্থানীয় চেয়ারম্যান তা দেন না। আমি ওই বৃদ্ধার ছেলের বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য সুপারিশ করেছিলাম, কিন্তু সেটিও দেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, গত কয়েকদিন আগে ওই এলাকার খোঁজ নিয়ে একজন বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে। আরও যদি কেউ এমন থাকেন তাহলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে কার্ড করে দেওয়া হবে।’

মিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী বলেন, ‘গত মিটিংয়ে এসব কার্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে এখন থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বৃদ্ধা মেহেরুন নেছার খোঁজখবর নিয়ে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।