জনসমাগম বন্ধে সাড়ে তিনশ’ চা দোকানিকে খাদ্য সহায়তা

91406014_1636429943179538_36045560276320256_n

গোটা ইউনিয়নে চায়ের দোকানে যাতে জনসমাগম না ঘটে, সেজন্য দোকানিদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন যশোরের দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান। বার বার নির্দেশনা উপেক্ষা করে দোকান খোলা রাখার কারণে পরিষদ ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে এই সহযোগিতা শুরু করা হয়েছে। খাদ্য সহায়তা পেয়ে দোকান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চা বিক্রেতারা।

ইউপি চেয়ারম্যান জানান, গোটা ইউনিয়নে সাড়ে তিনশ’ চা দোকানির তালিকা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে ২৬ মার্চ থেকে সরকার জনসমাগম বন্ধ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ এই নির্দেশনা পালন করছেন না। পরিবারের সদস্যদের মুখে দুমুঠো খাদ্য তুলে দিতে তারা কাজে বেরুচ্ছেন। বিশেষ করে পাড়া মহল্লার চা দোকানিরা দোকান খুলে বসে থাকছেন। আর সেখানে গিয়ে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চিত্রও একই। এ কারণে চা দোকানিদের ঘরে রাখতে আজ তাদের হাতে চাল ডাল, আলু ও সাবান তুলে দিয়ে ফের দোকান বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

শামসুর রহমান নামের একজন চা দোকানি বলেন, 'ঘরে খাওয়ার মুখ পাঁচটা। ঘরে বসে থাকলে খাওয়া হবে না। তাই দোকান খুলি। চেয়ারম্যান চাল-ডাল দিয়েছেন, এখনই দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাবো। আর খুলবো না। চেয়ারম্যান বলেছেন, লাগলে আরও চাল-ডাল দেবে।'

আব্দুল খালেক নামে অপর এক চা দোকানি বলেন, 'ঘরে খাবার থাকলে দোকান খুলবো কেন! চেয়ারম্যান খাবার দিয়ে গেলেন, এখন আর দোকান খুলবো না।'

ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, 'অনেক বলেও দোকানগুলো বন্ধ করা যাচ্ছিলো না। এখানে ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ। এ কারণে ইউনিয়নের সাড়ে তিনশ’ চা দোকানিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আয়ের অর্থ ও জনপ্রতিনিধিদের অনুদানের অর্থে প্রত্যেক চা দোকানিকে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি ডাল ও একটি করে সাবান দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও তাদের খাদ্য সহায়তা করা হবে।