বিভিন্ন স্থানে সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাকরোনাভাইরাস মোকাবিলা এবং মশক নিধনে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। নগরীর মোড়ে মোড়ে সাবানপানি দিয়ে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা, ব্লিচিং পাউডার ও পানি দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, সচেতনতামূলক মাইকিং এবং মশক নিধনে স্প্রে করা হচ্ছে। এসবের বাইরে কম আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তাও দিচ্ছে সিটি করপোরেশন।
মহানগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গাঙিনাপাড় ট্রাফিক মোড়, চরপাড়া মোড়, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, টাউনহল মোড়, পাটগুদাম ব্রিজ মোড়সহ মোড়ে মোড়ে, স্থানীয় বাজারে, পাড়া মহল্লায়, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সামনে, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাসপাতালের সামনেসহ অসংখ্য খোলা জায়গায় বসানো হয়েছে পানির ট্যাপ ও সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার অস্থায়ী ব্যবস্থা।
জীবাণুনাশক ও মশকনিধন স্প্রে করা হচ্ছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় নগরবাসীকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সিটির ৩৩টি ওয়ার্ডে ৩১৪টি, বস্তি এলাকার জন্য ৯৪টি জায়গায় সাবানপানি দিয়ে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া পালা করে নগরীর প্রতিটি প্রধান সড়কে ব্লিচিং পাউডারযুক্ত পানি ঢেলে নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার রাখা হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০০টি পিপিই ও ৫০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং ময়মনসিংহের সিভিল সার্জনকে ১২০টি পিপিই ও ৩০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সুরক্ষায় ৫০০টি হ্যান্ডগ্লাভস, ৫০০টি গামবুট ও ১০০০টি মাস্ক, ময়মনসিংহ সিটির স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় ১০০টি পিপিই সরঞ্জাম ও ময়মনসিংহ পুলিশের কর্মরত সদস্যদের জন্য ৫০০টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য ১০০ মিলির ২২০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ৪৪০০ কেজি ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। নগরীকে করোনাভাইরাস মুক্ত ও মশক নিধনে ৭৫টি হ্যান্ড স্প্রের সাহায্যে প্রতিনিয়ত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক ব্যাধির সূর্যকান্ত হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত প্রাঙ্গণ ও ওয়ার্ডে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ময়মনসিংহ সিটি মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০০০ দরিদ্র পরিবার এবং সিটির পক্ষ থেকে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে কম আয়ের ৬৬০০ জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা ভাবছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এমনটাই জানান তিনি।