লালমনিরহাটে নতুন করে আরও ৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দেবনাথ ও হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবনাথ জানান, ৪৬ বছর বয়সী একজন পুরুষ সহকারী নার্স, একই হাসপাতালের ৩০ বছর বয়সী টিবি ল্যাপ্রোসি কন্ট্রোল অ্যাসিসট্যান্ট কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছেন। এছাড়া এ উপজলার সাপ্টিবাড়ী পূর্বদৈলজোর এলাকায় গত ২৮ এপ্রিল প্রথম করোনা ভাইরাস পজেটিভ শনাক্ত রোগীর পরিবারের আরও ৫জন করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ওই রোগীর ৪০ বছর বয়সী পিতা, ১৯ বছর বয়সী স্ত্রী, ১৪ বছর বয়সী বোন, ১৭ বছর বয়সী ভাই ও ৬৫ বছর বয়সী দাদি রয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রথম করোনা পজেটিভ শনাক্ত যুবক, তার পিতা-মাতা রাজধানী ঢাকার গাজীপুরের সাইনবোর্ড ভুষিরমিল এলাকা থেকে গত ১৭ এপ্রিল ট্রাকে করে নিজ বাড়ীতে এসেছিল। অপর সদস্যরা তাদের থেকে সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়াও একই উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের টেপা পলাশী এলাকার ২৮ বছর বয়সী যুবক করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তিনি ঢাকার শনিরআখড়া থেকে গত ২৯ এপ্রিল রাতে মাইক্রোবাসে নিজ বাড়িতে আসেন।
ওই যুবক জানান, তিনি গত ২৯ এপ্রিল একটি মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। বরিশালের এক বন্ধু তাকে রেখে চলে যায়। তারা ঢাকায় অনলাইনে মার্কেটিং এ কাজ করতেন।
সাপ্টিবাড়ীর করোনা পজেটিভ শনাক্ত পরিবারের একজন সদস্য মোবাইল ফোনে জানান, গত ১৭ এপ্রিল আমরা তিনজন ও লালমনিরহাটের সাঁকোয়াবাজার এলাকার আরও এক দম্পত্তিসহ ৫ জন একটি ট্রাকে করে বাড়িতে এসেছি।
ওই ব্যক্তি বলেন, আমরা সবাই সুস্থ আছি। আমাদের কোনও অসুবিধা নেই। আগে যেমন স্বাভাবিক ছিলাম, এখনও সেইরকমই আছি। কিন্তু, শুনলাম আমরা নাকি সবাই করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছি।
ওই ব্যক্তি জানান, তিনিসহ পরিবারের তিন সদস্য গাজীপুর সাইনবোর্ড ভূষির মিল এলাকার গার্মেন্ট ইস্ট ওয়েস্ট প্রাক ফ্যাশন লিমিটেড কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাদের কাছে ওই প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড রয়েছে।
এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ গোড্ডিমারী এলাকার ২৩ বছর বয়সী ইটভাটার একজন নারী শ্রমিক করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। গত ৩ মে ওই নারী শ্রমিক আরও কয়েকজনের সঙ্গে চাঁদপুরের মতলব থেকে নিজবাড়ীতে আসেন। তিনিই এ উপজেলার প্রথম করোনা পজেটিভ শনাক্ত রোগী।
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, আদিতমারী উপজেলা থেকে মোট ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল। ৩৫ জনের রিপোর্টে ওই হাসপাতালের দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৯ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত এবং ২৬ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।
এছাড়াও একই সময়ে হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে ৬৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৬ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ ও ১ জন নারী করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
করোনা পজেটিভ শনাক্ত বাড়ি গুলো লকডাউন ও সংক্রমিতদের আইসোলেশনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ২জন, আদিতমারী উপজেলায় প্রথমে একজন, পরে আরও ৮ জন, পাটগ্রামে ১ জন ও হাতিবান্ধায় ১ জন সংক্রমিত হলেন। এরমধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় এক ব্যক্তি ও তার ছেলে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে গত ৩ মে বাড়িতে ফিরেছেন। সদর উপজেলার ওই ব্যক্তি লালমনিরহাট জেলায় প্রথম করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামপাড়া এলাকা থেকে ৮ এপ্রিল বাড়িতে আসেন। ৯ এপ্রিল নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ১১ এপ্রিল পাঠানো রিপোর্টে করোনা পজিটিভ চিহ্নিত হন তিনি।