খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার ধর্ষণ মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতারের পরপ্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও মিডিয়া উইং এর মুখপাত্র মনিরুজ্জামান মিঠু শুক্রবার (৮ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, খানজাহান আলী থানায় ২ মে তারিখে ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়। আসামিদের ৬ মে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করে। ৭ মে তারা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুস সামাদের আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে। পরে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
আসামিরা হলো- ৬ নং ওয়ার্ডের জাব্দিপুর কদমতলা মোড়ের মো. রাজ্জাক মোল্লার ছেলে পারভেজ মোল্যা (২২), ৭ নং ওয়ার্ডের জাব্দিপুর এলাকার মৃত শাহিদুল শেখের ছেলে মো. আজিজুর রহমান শেখ (২০), ৬ নং ওয়ার্ডের জাব্দিপুর হুমায়ুন কবির বিল্লাল এর বাড়ির ভাড়াটিয়া নাহিদ ইসলামের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (১৭)।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় যােগীপােল এলাকার চতুর্থ শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে (১৪) একই বাড়ির অপর ভাড়াটিয়া আমিনুল (১৭), যােগীপাল ৭নং ওয়ার্ডের আজিজুল (২০) ও জাব্দিপুর এলাকার পারভেজ (২২) অন্য একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় বাড়ির মালিক মানসুরুর রহমানের পুত্র সানাউল্লাহ দেখে ফেলায় ধর্ষকরা ওই ছাত্রীর সঙ্গে সানাউল্লাহর ছবি মােবাইল ধারণ করে। ঘটনার পরদিন ধর্ষকরা ওই ছবি দেখিয়ে সানাউল্লাহর পিতা মানসুরুর রহমানের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে মানসুর রহমান ওই ছাত্রী ও তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ঘটনা খুলে বলে। পরবর্তীতে ১ মে ওই ছাত্রীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের ঘটনায় ২ মে থানায় ৩ ধর্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।