আত্রাই-বারনইয়ে পানি বাড়ছে, তলিয়ে গেছে ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমির ফসল

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের পক্ষ থেকে শুক্রবার দিনভর ত্রাণ দেওয়া হয়।

নাটোরের সিংড়া পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি এবং নলডাঙ্গা উপজেলায় বারনই নদীর পানি বৃদ্ধি ১২ ঘণ্টা স্থবির থাকার পর আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি দ্রুত বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ও সন্ধ্যায় সিংড়া পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে, একই সময়ে নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেমি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার পানি বৃদ্ধি স্থবির ছিল।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের পক্ষ থেকে শুক্রবার দিনভর ত্রাণ বিতরণ করা হয় বন্যার্তদের মধ্যে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তা আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৪ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহৃত হয়। অপরদিকে নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদীর পানিও শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৬ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার জানান, নাটোরে বন্যা ও লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিংড়া, নলডাঙ্গা, গুরুদাসপুর ও লালপুরে রোপা বীজতলা ২শ’ হেক্টর, রোপা আমন ধান ৮১ হেক্টর, বোনা আমন ধান ২ হাজার ৮শ’ ৬৭ হেক্টর, রোপা আউশ ১শ’ ৪৮ হেক্টর ও ৯৩ হেক্টর জমির সবজি নিমজ্জিত হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবারও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে লালপুর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমির আখ তলিয়ে গেছে। অন্যান্য ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে এ পর্যন্ত জেলার ১১শ’ ২৫টি পুকুর ভেসে গেছে যার আয়তন ৪শ’ ৯২ হেক্টর। এতে মাছচাষিদের মোট ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে ৫শ’ ১০ মেট্রিক টন মাছের জন্য ৯ কোটি ৫০ লাখ এবং ১ কোটি ৫ লাখ পোনার জন্য ২ কোটি ৭০ লাখ ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়  বিভিন্ন ভাবে পানি বিলে প্রবেশ করছে। এতে বিলের পানি বাড়ছে আর নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে।

এতে মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। এ পর্যন্ত ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতে ১৭ পরিবার এসেছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত মোট ৩ হাজার ৮শ’ ৬০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হলেও শুক্রবার কোনও সহায়তা দেওয়া হয়নি। তবে নতুনভাবে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বন্যার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের পক্ষ থেকে শুক্রবার দিনভর ত্রাণ বিতরণ করা হয় বন্যার্তদের মধ্যে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন বানু জানান, এ পর্যন্ত  ১২টির মধ্যে ৭ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। নতুনভাবে পৌর এলাকার গাইনপাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ২টিসহ মোট ৫২টির মধ্যে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪শ’ ৮২টি পরিবার এসেছে। এ পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২৬ টন চাল ও ১ লাখ টাকার শুকনো খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার দিনব্যাপী প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ৫শ’ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা ও যাতায়াতের জন্য ১৩টি নৌকা দিয়েছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, উপজেলার বিয়াঘাট ও খুবজিপুরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিলশা এলাকায় ৩টি পরিবার স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছে। এর বাইরে হরদমা এলাকায় পাকা রাস্তাসহ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। এর আগে ওই এলাকার ১০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হলেও শুক্রবার বিয়াঘাট ইউনিয়নে ২শ’ ৬০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। তবে দুই-একদিনের মধ্যেই খুবজিপুর ইউনিয়নে ২শ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হবে।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মুল বাণীন দ্যূতি জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে এর আগে উপজেলার দূরদূরিয়া,ওয়ালিয়া ও ঈশ্বরদী ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এরমধ্যে দূরদূরিয়া ইউনিয়নে বেশি সমস্যা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত পুকুর খননই এই জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। দুই-এক দিনের মধ্যেই পুকুর মালিকদের ডেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করা হবে বলেও জানান ইউএনও।