ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক গত ২২ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, এরপর বাকি ৮ জন কর্মচারী-কর্মকর্তার সকলেই এখন কোভিড-১৯ পজিটিভ। ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হলো রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) যাদুরানী শাখার সব কার্যক্রম। ঈদুল আজহার সময় জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির হাটের পাশের একমাত্র ব্যাংককে করোনার কারণে সোমবার (২৭ জুলাই) এভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হলো প্রশাসন। এ ঘটনায় জেলার কোরবানির গরু বেচাকেনায় বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল করিম।
তিনি বলেন, ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং ব্যাংকে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাই জনস্বার্থে যাদুরানী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সব ধরনের লেন-দেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত তাদের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসে ততোদিন শাখাটি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
ব্যাংকের শাখা বন্ধ হওয়ায় কোরবানির পশু বেচাকেনায় বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বৃহত্তর জনস্বার্থে আমাদের অন্য কোনও বিকল্প ছিল না।
রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুস সামাদ বলেন, যাদুরানী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ইসাহাক আলী অসুস্থ হলে গত ১৮ জুলাই রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর পিসিআর ল্যাবে পাঠাই। ২০ জুলাই তার করোনা পজিটিভের রিপোর্ট আসে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২২ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এদিকে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার যাদুরানী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ইসাহাক আলী করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২২ জুলাই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ২২ জুলাই ব্যাংকটিতে কর্মরত ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর পিসিআর ল্যাবে পাঠান। ২৬ জুলাই তাদের সকলের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপরই সোমবার থেকে ব্যাংকটির সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে হরিপুর উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে হরিপুরের সাংবাদিক কবিরুল ইসলাম জানান, ব্যাংকটি যাদুরাণী হাটে স্থাপন করার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল, এই হাটটি জেলার সবচেয়ে বড় গরু বেচাকেনার হাট। সীমান্ত সংলগ্ন হাটটি করিডোরের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্ত দিয়ে বৈধভাবে ভারত থেকে আসা গরু বেচাকেনারও সবচেয়ে বড় বাজার। আর যে সময় আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বছরের সবচাইতে বড় লেনদেনটি হতো সে সময়ে ব্যাংকটি বন্ধ হওয়ায় বিপদে পড়েছেন গরুর ব্যবসাকেন্দ্রিক এ ব্যাংক গ্রাহকরা।
ব্যাংক গ্রাহক যাদুরাণী হাটের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, ব্যাংকে আমার টাকা আটক হয়ে আছে, ব্যবসা নিয়ে বড় বিপদে পড়েছি। পাশের রাকাব রাণীশংকৈল শাখার ব্যবস্থাপক মোতাহার হোসেন বলেন, যেহেতু ব্যাংকটির অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি সে কারণে অন্য কোনও শাখা থেকেও এখানকার গ্রাহকরা ব্যাংক বন্ধ থাকাকালীন নিজ নিজ অ্যাকাউন্টের টাকা উঠাতে বা জমা দিতে পারবেন না।
রাকাবের ঠাকুরগাঁও জোনাল অফিসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় ব্যাংকটির ২০টি শাখার মধ্যে মাত্র ৩টি শাখায় অনলাইন কার্যক্রম আছে, ফলে বাকি ১৭টি শাখার সব গ্রাহকই অনলাইন সুবিধাবঞ্চিত। এ ব্যাংকের সবগুলো শাখাই রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে যার সংখ্যা ৩৮৭টি। এখন পর্যন্ত অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়েছে কেবল ১০৯টি শাখায়।