এসপি পর্যটক দলের বরাতে জানান, তারা বুধবার বিকালে চলনবিলে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ ও নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা বিলে বেড়ানো শেষে বিলপথেই সিংড়া উপজেলার তিশীখালী মাজারে পৌঁছে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা আত্রাইয়ের উদ্দেশে নৌকায় রওনা হন। দলটি ৩ ঘণ্টা পর বুঝতে পারে তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে। অন্ধকার চলনবিলের মধ্যে তারা তাদের দিক কিংবা অবস্থান বুঝতে পারে না। এমনকি কোন জায়গায় অবস্থান করছে কিংবা কোন দিকে যেতে হবে তারা তা বুঝতে পারছিল না। ওই সময় চলনবিল এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। শো-শো শব্দ হচ্ছিল। বড় বড় পানির ঢেউ, কোথাও কোনও বাড়িঘর নেই। নেই কোনও আলো। জীবন ঝুঁকির মুখে। হারিয়ে ফেলেছে দিক। একসময় তারা ভেবেই নিয়েছিল, আর ফিরতে যেতে পারবে না।
এমন বিপদমুহূর্তে পর্যটক দলের সদস্য পিয়াস সরকারের মনে পড়ে ‘৯৯৯’-এর কথা। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে তারা বাঁচার আকুতি জানায়। ফোন পেয়ে সিংড়া থানার ওসি বিষয়টি এসপিকে জানান। এসপির নির্দেশে সিংড়া ও গুরুদাসপুর থানা পুলিশের পাঁচটি টিম কাজ শুরু করে।
এসপি আরও জানান, অভিযানকালে তিনি সার্ক্ষণিক বিষয়টি মনিটরিং করেন এবং পিয়াস সরকারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। পিয়াস সরকার তাকে জানান যে, তাদের জীবন ঝুঁকির মুখে, তারা কোনও দিক খুঁজে পাচ্ছেন না। আধুনিক প্রযুক্তি ও এলআইসি, ঢাকার সহায়তায় কল করা ব্যক্তির রাত ১টা ৩৪ মিনিটের অবস্থান জানা যায় সিংড়া থানাধীন বিলদহর এলাকায়। সেখানে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। পুনরায় রাত ১টা ৪৬ মিনিটে কল করা ব্যক্তির অবস্থান জানা যায় গুরুদাসপুর থানাধীন যোগেন্দ্রনগর এলাকায়। সিংড়া ও গুরুদাসপুর থানা পুলিশের ৫টি টিম অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টায় তাদের সিংড়া বিলদহর এলাকায় নদীর পানি থেকে উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ওই পর্যটক দলকে আত্রাই সীমানায় রেখে আসে।
পর্যটক দলের সদস্য আত্রাই উপজেলার বলরামচক গ্রামের অমৃত সরকারের ছেলে পিয়াস সরকার (২৪), কাশিয়াবাড়ি গ্রামের বেলালের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০) ও পাচুপুর গ্রামের কাশেমের ছেলে মান্নান (৫০) জানান, তারা কখনও ভাবেননি অজানা গভীর বিল থেকে তাদের এত দ্রুত সন্ধান করে পুলিশ সঠিক পথ দেখিয়ে দেবে। তারা এজন্য সৃষ্টিকর্তা, ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ ও জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।