ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং টেলিযোগাযোগ আইনে মামলা বিচারাধীন থাকায় যশোরের বাঘারপাড়ার ৮ নম্বর বাসুয়াড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানিয়া আফরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, আবু সাঈদের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও আঙুলের ছাপ ব্যবহারের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং নড়াইল সদর থানায় টেলিযোগাযোগ আইনে দায়েরকৃত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একইসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ আইনে এসব অভিযোগের ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থাকায় চেয়ারম্যান সাঈদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ১২ নভেম্বর ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা মতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেননি। গত ২৯ জানুয়ারি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ পুনরায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় কয়েকদিন জেলহাজতে থাকতে হয় তাকে।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আফরোজ বলেছেন, মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ই-মেইল পেয়েছি। যে মুহূর্তে আদেশটি জারি করা হয়েছে, তখন থেকে তিনি আর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে নেই। মন্ত্রণালয় ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে আর একটি আদেশ জারি করবেন। আদেশটি পাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যানকে তার দায়িত্বের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, মঙ্গলবার বিকেলে তিনি সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জেনেছেন। ষড়যন্ত্রমূলক মামলার শিকার দাবি করে তিনি বরখাস্তের ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেন।