রাজধানীর শ্যামপুর থানার এস আই মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীরকে মারধর ও ছিনতাইয়ের অপরাধে ঢাকা মেট্রো চ-১১২০১২ নং লেগুনার চালক সুমন, হেলপার জুয়েল ও অজ্ঞাতনামা আরও একজনের নামে হত্যা চেষ্টার মামলা করেছেন (মামলা নং ২৩)। মামলার তদন্তে আছেন এস আই আবকর আলী।এর আগে গত রবিবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে অভিযুক্ত মেঘনা পরিবহন লেগুনা মালিক পক্ষের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আহত শিক্ষার্থী তানভীরের সুস্থ হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বাবদ ক্ষতিপূরণ দিয়েই স্রেফ দায় এড়াতে চেয়েছিল মেঘনা পরিবহন লেগুনা মালিক পক্ষ। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার জনকে সাক্ষী রেখে লিখিত এক হলফনামায় লেগুনা মালিক বাহার স্বাক্ষর করেন।এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসার পর আহত শিক্ষার্থী তানভীরের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক। বুধবার সন্ধ্যায় কিডনি বিশেষজ্ঞ ড. শরীফ জানিয়েছেন, ‘প্রথমে তার কিডনিতে যে সমস্যা দেখা গিয়েছিল তা কিছুটা উন্নতির দিকে’। তবে তানভীরের ঘন ঘন বমি করার কারণ সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বাংলাবাজারে অবস্থিত মেঘনা পরিবহন লেগুনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক আটকে লেগুনার চালক ও হেলপার শিক্ষার্থীদেরকে প্রায়ই অপমান করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে দ্রুতগতিতে এসব লেগুনা চলাচলের কারণে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা আহত হয়। তাই এসব লেগুনা স্ট্যান্ড দ্রুত সরানোর দাবি করেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরিদাবাদ থেকে বাংলাবাজারে আসার জন্য একটি লেগুনায় ওঠেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানভীর মাহবুব। তানভীরের অভিযোগ- তাকে লেগুনায় একা পেয়ে চালক সুমন ও সুজনসহ আরও একজন লেগুনা শ্রমিক বেদম মারধর করে এবং সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ, মোবাইল ও টিউশনির বেতনসহ প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
/আরএআর/এফএ/