জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বছর জেলার বিলগুলোতে ১২৭৮.১৬ মে.টন এবং ফ্লাড প্লেইন বা প্লাবনভূমিতে ১৩ হাজার ৬৭৩.১১ মে.টন মাছ উৎপাদন হয়। কিন্তু চলতি বছর অধিক ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার সঙ্গে অধিক বৃষ্টির কারণে বিল ও প্লাবনভূমিতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ ভাগ অধিক মাছের উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া এবছর বিলুপ্তপ্রায় খলিসা, ভেদা, তারাবাইন, রাণী, গুতুম, দেশি পাবদা, বাচা, বুতুম, চেলা, কাকিলা, কালবাউশ, পাতাসি, গুচি, গোরালী, কাহলী মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
সদর উপজেলার ফুলবাগান বাজারে মাছ বিক্রেতা বাবুল জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর মাছের আমদানি বেশি ও দাম কম। তবে বিলুপ্তপ্রায় মাছের দাম একটু বেশি।
উলিপুর গ্রামের আবুল হাকিম জানান, বাজারে এখন দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, দামও কম। এছাড়া কিছু বিলুপ্ত প্রজাতির মাছও দেখা যাচ্ছে। দাম একটু বেশি হলেও মাঝে মধ্যেই তিনি এসব কিনে পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন।
মাদ্রাসামোড় মাছ বাজারের বিক্রেতা সুমন জানান, বিল এলাকা থেকে প্রতিদিনই প্রচুর পরিমানে দেশি ও বিলুপ্তপ্রায় মাছ বাজারে আসছে। এই মাছগুলোর চাহিদাও বেড়েছে। পুকুর ও নদীর মাছের পাশাপাশি তারা ওই মাছগুলোও বিক্রি করছেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, জেলায় মোট ১৮ টি অভয়াশ্রম রয়েছে। বন্যায় এসব অভয়াশ্রম থেকে বিভিন্ন মা মাছ বিল ও প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া নদী ও বিল সংলগ্ন সংযোগ স্থানদিয়ে নদীর মাছ বিলে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পুকুর ভেসে যাওয়ায় মাছ বিলের পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বিল ও প্লাবনভূমিতে পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মাছের সংখ্যা ও পোনা বেড়েছে। সার্বিক বিবেচনা ও পরিস্থিতে এবারে নাটোরে মাছের সংখ্যা বেশি। এই মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। এসব জায়গায় সাধারণত পাবদা, খোলসা, শিং, মাগুর, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।