হাবিপ্রবি’র ছাত্রলীগের কাণ্ড, ব্যাংকের ম্যানেজারকে আটকে রেখে ফেসবুকে লাইভ

হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রূপালী ব্যাংকের শাখা স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে রাতের বেলা ব্যাংকে ঢুকে কর্মরত ম্যানেজারকে আটকে রেখে জেরা করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)র ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে অভিযোগ করায় রূপালী ব্যাংকের ম্যানেজার পবিত্র কুমার কুন্ডুকে আটক করে হেনস্থা করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্রলীগের এক নেতা ওই ব্যাংকের ম্যানেজারকে আটক করে কৈফিয়ত চেয়ে সেই ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করেছেন।

শুক্রবার রাত ৯টা ২৯ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোরশেদুল আলম রনী ও রিয়াদ খানের ফেসবুক থেকে এই ভিডিওটি লাইভ করা হয়েছে। এরপর সকাল থেকেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিডিওর কথা শুনে জানা গেছে যে, রূপালী ব্যাংকের শাখা টিএসসিতে স্থানান্তর করতে না দেওয়ায় এই অভিযোগ করেছিলেন ম্যানেজার। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাইভ ভিডিওটিতে বারবার জানতে চেয়েছেন যে কেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে ওই ভিডিওটিতে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি ওই ব্যাংকের ম্যানেজার।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে টিএসসিতে রূপালী ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর করা শুরু করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ সময় সেখানে ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর করা যাবে না এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আপত্তি আছে বলে বাধা দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে শাখা স্থানান্তর করার জন্য বলে। কিন্তু ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে অভিযোগ করেন ব্যাংকের ম্যানেজার।

এদিকে, অভিযোগ করার বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাত সাড়ে ৯ টার দিকে  ব্যাংকের ওই শাখার ভেতরে প্রবেশ করে সেসময় স্থানান্তর কাজে কর্মরত ম্যানেজারকে কাছে অভিযোগ করার বিষয়ে কৈফিয়ত চায়। এ সময় ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ করা হয়।

এ ব্যাপারে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা রিয়াদ খানের সাথে শনিবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টিএসসিতে ব্যাংকের শাখা স্থানান্তর করার বিষয়ে আপত্তি আছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। কিন্তু, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ করোনাকালের সুযোগ নিয়ে শাখাটি টিএসসিতে স্থানান্তর করছিল। এটি জানতে পেরে আমরা শুধু আপাতত ব্যাংকের শাখা টিএসসিতে স্থানান্তর না করার জন্য বলেছি এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার জন্য বলেছি। কিন্তু ম্যানেজার আমাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অভিযোগটি উত্তোলন করে নিয়েছেন। এখানে আমাদের কোনও স্বার্থ নেই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষেই আমরা কথা বলতে গিয়েছিলাম। আর ফেসবুক লাইভে শুধু আমরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার বিষয়টি জানতে গিয়েছিলাম।

এ ব্যাপারে শনিবার বিকেলে রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে মিটিং করছি। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে ও ব্যাংকের জিএম স্যারের সঙ্গে মিটিং করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপের ব্যাপারে জানানো হবে। অবশ্য সে সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক জানা সম্ভব হয়নি।