বিজয়ের দিন চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রুটে শুরু হবে ট্রেন চলাচল




চিলাহাটি রেল স্টেশন২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর চিলাহাটি ও হলদিবাড়ী রুটে আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ওইদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠিকভাবে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন। সেভাবেই দুই দেশের প্রস্ততি চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের স্ট্যাডিং কমিটির মেম্বার ও নীলফামারী সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট দিন ক্ষণের বিষয়টি দুই দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে যাত্রী পরিবহনের ভিসা, ইমেগ্রেশনসহ সব প্রস্ততি নিয়ে আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। তবে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শিগগিরই চালু হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫৬ বছর পর ট্রেন চালুর মাধ্যমে দুই দেশের সেতু বন্ধন আরও দৃঢ় হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে নেপাল ও ভূটানের বাণিজ্যিক সর্ম্পক বাড়াতে এই রুটকে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর চিলাহাটি ও জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ী সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে রেললাইন পাতার কাজ শেষ। ভারতীয় সীমান্তের ২০০ মিটার নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ১ অক্টোবর কাজ শেষ করা হয়। দুই দেশের সংযোগ রেলপথকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আমদানি ও রফতানিকারকরা। পাশাপাশি ঢাকা ও খুলনা থেকে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেনও চলবে শিলিগুড়ি পর্যন্ত।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় রেল সংযোগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের রেল লাইন পাতার কাজ শুরু হয়। ওইদিন কাজের উদ্ধোধন করেন রেলপথমন্ত্রী অ্যাডভোটে নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। জুন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির কারণে তা শেষ কো সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় কাজ শুরু করা হয় এবং ১ অক্টোবর লাইন পাতার কাজ শেষ হয়।

সুত্র জানায়, রেলপথটি প্রস্তত করতে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর ভারতের ব্যয় হয়েছে, ৪২ কোটি রুপি। হলদিবাড়ী রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার লাইন বিছানো হয়। এছাড়া হলদিবাড়ী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার রেলপথকে নতুন করে স্থাপন করা হয়।

অপরদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চিলাহাটি থেকে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার রেল লাইন স্থাপন হয়েছে। চিলাহাটি থেকে ঢাকা ও খুলনা পর্যন্ত রেলপথকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও ডবল লাইন স্থাপনের চিন্তা ভাবনা চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুই দেশের বিছানো রেললাইনের জোড়া লাগা স্থানটিতে সামান্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, যে কোনও সময় ফাঁকা রেল লাইন জোড়া লেগে যাবে। এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সেখানে আসছে।

ভারতের হলদিবাড়ী নো-ম্যানস ল্যান্ডে চলছে উন্নয়ন কাজভারতের উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা অধিকারী শুভানন চন্দ্র জানান, বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত রেললাইন বসানোর কাজ শেষ। ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচলে কোনও সমস্যা হবে না। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সর্ম্পকের উন্নতি ঘটাতে এই রেলপথ চালু হচ্ছে। তবে আপাতত এই পথে শুধু পণ্যবাহী গাড়ি চলবে। সবকিছু বিবেচনা করে আগামীতে এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনও চালানো হবে।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরহানুল হক বলেন, সড়কপথে আমদানি ও রফতানি সহজলভ্য নয়। এছাড়া ভারত থেকে আমদানি ও রফতানি করতে সড়কপথে খরচ বেশি। তাই ট্রেনে মালামাল পরিবহন অনেকটাই সাশ্রয়। ভারতের রেল যেমন এই পথ ব্যবহার করে শিলিগুড়ি যাবে, তেমনি বাংলাদেশের রেলও পথটি ব্যবহার করে শিলিগুড়ি থেকে পণ্য আনা নেওয়া করবে।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, শিলিগুড়ির সঙ্গে ঢাকা ও খুলনা থেকে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হলে তা হবে অত্যন্ত লাভজনক। আন্তর্জাতিকভাবে পর্যটকরা ভারত সফরের শুরুতেই দার্জিলিংকে বেছে নেয়। আবার দার্জিলিং থেকে বিমানযোগে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সফর করা সহজ। রেলপথের ফলে অনেক সুযোগ সুবিধা তৈরি হবে।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, চলতি বছরের মহান বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর) রেলপথটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। অবিভক্ত ভারতের রেল যোগাযোগের এটিই প্রধান পথ ছিল। কলকাতা থেকে এই পথে ট্রেন চলাচল করতো। সেই যোগাযোগটি ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ভারত যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায়। গত জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত করোনা মহামারির কারণে তা একটু পিছিয়ে যায়। তারপরও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালকের আন্তরিকতায় কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়েছে।