জেলা শহরের কিচেন মার্কেটের পাইকারি ব্যবসায়ী জামাল ভান্ডারি ও রুহুল আমিন বলেন, একদিন আগেও কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। সেখানে আজ কেজিতে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। চড়া দামের এই বাজারে সবজিসহ পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও শুকনা মরিচের বিক্রিও কমেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, একদিনের ব্যবধানে মরিচসহ সবজির দাম বেড়েছে চারগুন। পাইকারি দোকানে প্রকারভেদে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকা দরে।
ওই বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী অন্তর মিয়া বলেন, বুধবার প্রতিমণ মরিচ কেনা পড়েছে ৬ হাজার ৮৫০ থেকে ৬ হাজার ৯০০ টাকা।
তিনি বলেন, কাঁচা মরিচসহ যে কোনও পণ্য প্রতিদিন মোকাম থেকে কিনে এনে বিক্রি করতে হয়। মরিচ পচনশীল হওয়ায় আড়তের দামের চেয়ে সামান্য লাভ করে দ্রুত বিক্রি করতে হয়। এভাবে খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা ও গ্রাহকের মাঝে বিক্রি করেন। গতকালের তুলনায় আজ বুধবার পাইকারি প্রতি কেজি মরিচ চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ী বুলমিয়া ও ইলিয়াস আলী বলেন, গতকাল প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ দরে বিক্রি করলেও আজ আমদানি কম হওয়ায় তা ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ স্থানীয়ভাবে মরিচের উৎপাদন বন্ধ। ভারতীয় ও মোকাম থেকে মরিচের সরবরাহ কম। তাই চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আমরা আমদানিকৃত মরিচের ওপর নির্ভরশীল। করোনা মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ এখন কর্মহীন। ওইসব কাঁচাপণ্য আমাদের হাতে কেটে খুচরা বিক্রি করতে হয়। দোকানের কিনা মরিচ বিক্রি না হলে পুরো লোকসান গুনতে হবে।
একই মোড়ের কারিগর অমল রায় বলেন, বর্ষার অছিলা আর ভারত থেকে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও মরিচ না আসার অজুহাতে সবজির বাজারে নাভিশ্বাস হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের।
এদিকে, এক দিনের ব্যবধানে খুচরা বাজারে আদা (পুরাতন) ৫০ টাকা বেড়ে ৩১০ টাকা, প্রকারভেদে আলু কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। কচুর বই ১০ টাকা বেড়ে ৩৫, পটল ২০ টাকা বেড়ে ৭০, বরবটি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭০, ঝিঙ্গা কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭৫, ঢেঁড়শ ১০ টাকা বেড়ে ৬০, বেগুন ১২ টাকা বেড়ে ৬০, চিচিঙ্গা ১০ টাকা বেড়ে ৫৫, করলা প্রতিকেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা।
শুকনা মরিচ ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ টাকা, শসা কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, লেবু হালিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩৫, কাঁচকলা প্রতি হালি ২৫, পেঁপে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ ও আকার ভেদে কুমড়া প্রতি পিস ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
জেলা প্রশাসনের মাকেটিং কর্মকর্তা এরশাদ আলম খান বলেন, আমরা নিয়মিত জেলা শহরসহ উপজেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং করছি। এবারে বন্যার পর টানা বৃষ্টির কারণে মোকাম থেকে খুচরা বাজারে মরিচের আমাদানি কম হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। কাঁচা মরিচসহ সবজির বাজার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এখন নতুন সবজি বাজার উঠাও শুরু হয়েছে।