কুড়িগ্রামে প্রণোদনা পাচ্ছেন সাড়ে ৭ হাজার ইলিশ জেলে

কুড়িগ্রামে জেলেদের জালে ধরা পড়া ইলিশ। (ছবি: আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম))

চলতি বছর বর্ষাকাল বেশ দীর্ঘায়িত হয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ রয়েছে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে কুড়িগ্রামের নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মা ইলিশের আগমনের সম্ভাবনা দেখছেন ইলিশ জেলেসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রজনন সময়ে মা ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে সরকার ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সময় সারাদেশের নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মাছ শিকারের এ নিষিদ্ধ সময়ে কুড়িগ্রামের ইলিশ জেলেদের মধ্যে দুস্থ ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ১শ’ ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় ১৬টিরও বেশি নদ-নদী থাকলেও মূলত ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদে ইলিশের বিচরণ ঘটে। এসব নদ-নদী অববাহিকার জেলা সদর, উলিপুর, চিলমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ইলিশ জেলের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ প্রকল্পের আওতায় ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে এই চাল তালিকাভুক্ত জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হবে। এই প্রণোদনা জেলেদের ইলিশ শিকার থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিমাণে কম হলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার নদীতেও ধরা পড়ে ইলিশ। (ছবি: আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম)

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) কালিপদ রায় জানান, ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সময় সরকার সারাদেশের নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে হাট বাজারে ব্যানার লাগানোসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গুচ্ছ মিটিং শুরু হয়েছে। জেলেদের সঙ্গে মত বিনিময় করা হচ্ছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে জেলাজুড়ে মাইকিং এর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএফও বলেন,‘সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করতে প্রচারণা পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলা মৎস্য বিভাগ সে প্রস্তুতি নিয়েছে।’

তবে জেলার সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ে নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনার জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া যায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মৎস্য বিভাগের নিজস্ব কোনও নৌকা নেই। ভাড়া নৌকায় একদিন অভিযান পরিচালনা করতেই প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অভিযানের জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া যায় তা দিয়ে ২২ দিন অভিযান পরিচালনা করা মোটেও সম্ভব নয়।

ব্রহ্মপুত্র নদে ইলিশ শিকারের জেলে নৌকা। (ছবি: আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম)

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে কুড়িগ্রাম জেলাকে ইলিশ জোনভুক্ত করা হয়। এরপর ২০১৯ সাল থেকে ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে জেলার ইলিশ জেলেদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া শরু হয়। জেলার প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে থাকলেও খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে চাল পাচ্ছেন শুধু ইলিশ জেলেরা। এছাড়াও খাদ্য সহায়তার বাইরে থাকছেন প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি জেলে পরিবার। এই বিপুল পরিমাণ জেলে পরিবারকে প্রণোদনার বাইরে রেখে নদীতে মাছ ধরা শতভাগ বন্ধ রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন জেলে নেতারা। এ পরিস্থিতিতে অন্তত নদীতে মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোকে প্রণোদনা হিসেবে চাল ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে মাছ আহরণে বিরত রাখতে পারলে ইলিশ প্রজননে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।