চুয়াডাঙ্গা ও নাটোরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গায় প্রাণ হারানো ব্যক্তির নাম সম্রাট। দুটো ট্রেন ক্রসিংয়ের সময় একটির ধাক্কা খেয়ে মারা যান তিনি। তবে নাটোরে ট্রেনে কাটা পড়া ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। শনিবার রাত ও রবিবার সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সম্রাট সমবায় নিউমার্কেটের একটি দোকানে কাজ করতেন। শনিবার রাতে কাজ শেষ করে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। ফার্মপাড়া রেলগেটে এসে দেখেন চুয়াডাঙ্গা থেকে দর্শনামুখী একটি মালবাহী ট্রেন অতিক্রম করছে। সম্রাট অপর লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে ট্রেনটির পার হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ ছুটে আসে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সীমান্ত এক্সপ্রেস। মালবাহী ট্রেনের শব্দের কারণে সীমান্ত এক্সপ্রেসের শব্দ বুঝতে না পেরে ওই লাইনের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় সীমান্ত এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রায় ১শ মিটার সামনে গিয়ে পড়েন সম্রাট। পরে তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায় আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস। কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় সম্রাটের দেহ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফার্মপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে কোনও গেট না থাকলেও ট্রেনের চালককে সংকেত দেওয়ার জন্য সবসময় একজন করে দায়িত্বে থাকেন। তবে শনিবার রাতে সংকেত দেওয়ার জন্য কেউ আসেননি। গেটম্যান ছিলেন নিজের ঘরে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
চুয়াডাঙ্গা সদর ফাঁড়ি পুলিশের এসআই রইস উদ্দিন শরীফ জানান, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
অপরদিকে নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ওসি নজরুল ইসলাম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানান, বেশ কিছুদিন থেকেই ৪৫ বছর বয়সী এক লোক এলাকায় যত্রতত্র ঘুরে বেড়াত। রবিবার সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার সূর্য বাড়ি এলাকার ২৩৯ নং ব্রিজের উত্তর পাশে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়। তার পড়নে শুধু লুঙ্গি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে নিহত ব্যক্তি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী । বিষয়টি সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন ওসি।
তবে এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।