চার্জ গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় ধর্ষণ মামলার রায় আজ

20201018_173757

চার্জ গঠনের এক সপ্তাহের মাথায় আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সাত বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এই রায় ঘোষণা করবেন। রবিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এই মামলার বাদী-বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শোনেন বিচারক। এরপর তিনি সোমবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এরআগে, ১১ অক্টোবর পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র জমা দিলে ১৩ অক্টোবর চার্জ গঠন করেন আদালত।

বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই ধরনের ফৌজদারি মামলায় দেশের কোনও নিম্ন আদালতে এত কম সময়ে বিচারকাজ শেষ হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মাকোড়ডোন গ্রামের আশ্রয় প্রকল্প এলাকায় পিতৃহীন সাত বছর বয়সী এক শিশু তার মামা বাড়িতে থেকে বড় হচ্ছিলো। ৩ অক্টোবর বিকালে ওই আশ্রয় প্রকল্পের পঞ্চাশোর্ধ প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার তাকে তাকে নিজের ঘরে ডেকে ধর্ষণ করে। পরে এই ঘটনা জানাজানি হলে সেদিন রাতেই মেয়েটির মামা মোংলা থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন এবং পুলিশ মান্নানকে গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিত মুখার্জ্জী ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে আট দিনের মাথায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল জানান, মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় জুডিসিয়াল আদালত মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে পাঠায়। আদালতের বিচারক গত ১১ অক্টোবর মামলাটি আমলে নিয়ে পরদিন চার্জ গঠন করে। ১৩ অক্টোবর বাদী পক্ষের মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ১৪ অক্টোবর মামলার সংশ্লিষ্ট সাক্ষী চিকিৎসক, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়। ১৫ অক্টোবর আসাসির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ১৮ অক্টোবর বিকালে বিচারক দীর্ঘ সময় বাদী ও বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে সোমবার রায়ের দিন ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) রনজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, 'মামলাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বাগেরহাটের আদালতে রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়ে থাকবে।'