শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়া বাঁশি বের করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

নাটোর সদর হাসপাতালশ্বাসনালিতে আটকে যাওয়া বাঁশি বের করতে গিয়ে অস্ত্রোপচারের সময় নাটোর সদর হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে অভিভাবকরা ভুল চিকিৎসায় শিশু হত্যা বললেও, বিপরীত দাবি চিকিৎসকের। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান।

নিহত শিশুর নাম আরিফুল ইসলাম (১০)। সে সদর উপজেলার চর তেবাড়িয়া গ্রামের খোদাবক্সের ছেলে।

শিশুর পিতা খোদাবক্স জানান, সোমবার সকালে বাঁশি বাজানোর সময় আরিফুলের গলায় তা আটকে যায়। এরপর দ্রুত তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাজী মোহাম্মদ আলী ওরফে রাসেল অপারেশন থিয়েটারে না নিয়ে জরুরি বিভাগেই শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার শুরু করেন। এক পর্যায়ে আরিফের মৃত্যু হয়।

খোদাবক্সের দাবি, আরিফকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপারেশন করা হলে মৃত্যু হতো না। তিনি এ মৃত্যুর জন্য ওই চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আরএমও মনজুর রহমান ও সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, ওই চিকিৎসক তাদের বলেছেন শিশুটির শ্বাসনালিতে বাঁশি আটকে যাওয়ায় শ্বাস নিতে পারছিল না। ওমন শঙ্কটাপন্ন অবস্থায় শিশুটির মা তাকে বলেন শিশুটিকে বাঁচাতে যা হয় করেন। এ অবস্থায় ওই মায়ের কনসার্ন নিয়ে শ্বাসনালি কেটে বাঁশি বের করে শিশুটিকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন চিকিৎসক।

এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন আরও বলেন, সদর হাসপাতালের পরিচালক আনছারুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।