লালমনিরহাটে পুরনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণের কাজ চার মাস স্থগিত রাখার আদেশ দিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি আবেদন আমলে নিয়ে সোমবার (১৬ নভেম্বর) এ আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাজল রশীদ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় বিচারক রুল জারি করেছেন এবং লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়রকে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ আগামী চার মাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আদেশে নিম্ন আদালতে মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাধা নেই বলেও জানানো হয়।
লালমনিরহাট সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সূফী মো. তাহেরুল ইসলাম হাইকোর্টে এ আবেদন করেন।
।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) আদালতে দায়ের করা এক নালিশি মামলায় লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক সৈয়দ সুফি তাহেরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, লালমনিরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মাণের নামে এর মূল বেদি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং শহীদ মিনার চত্বরের ভেতরে এক কোনায় স্থাপন করা হচ্ছে। মূলত শহীদ মিনারের পেছনের এক ভবনের মালিককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৪৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত শহীদ মিনারটির বেদি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ করা হলেও এর কোনও নকশা প্রদর্শন করা হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেদিটি আগের জায়গায় অক্ষত রাখার আবেদন জানান তিনি। গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি আমলে নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দিয়েছিলেন ওই আদালতের বিচারক সুরাইয়া বেগম। আদালতের ওই আদেশে বলা হয়েছিল, ‘বাদীর নালিশি অভিযোগের শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।’
পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু। মেয়রের আপিল মঞ্জুর করে স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার করা হয় এবং নালিশি মামলার শুনানি কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। তবে সেখানে শুনানি হওয়ার আগেই শহীদ মিনারটির নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখে লালমনিরহাট পৌরসভা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেন, ‘ জেলা ও দায়রা জজ আদালত বাদীর নালিশি মামলা শুনানি করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন এবং মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের আদালতে শুনানির জন্য স্থানান্তর করে দেন। এরপর লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন শুধু রং করার কাজ বাকি রয়েছে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘এখানে আমার উন্নয়ন কাজের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সুফীকে দিয়ে আদালতে মামলা করেছে। কিন্তু সেখানে তারা টিকতে পারেনি। এখন হাইকোর্টে গিয়েছে। সেখানেও আইনি লড়াইয়ে জিতবো ইনশাল্লাহ।’
অভিযোগ রয়েছে, এ প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখা হলেও মূল নকশাটি প্রকাশ্য করা হয়নি। মামলার বাদীর অভিযোগ, জেলাবাসীর অনুভূতির সঙ্গে জড়িত এই শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে এর পেছনে রাস্তা না থাকা একটি ভবনের মালিককে বাড়ির রাস্তা পেতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তার আশঙ্কা, ওই ভবনটিকে দৃশ্যমান করতে শহীদ মিনারের ভেতরে থাকা অর্ধ শতাব্দী পুরাতন গাছগুলো কেটে ফেলা হতে পারে।
এদিকে, পৌরসভার সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ করা হয়েছে। এখন শুধুই রং করার কাজ অবশিষ্ট রয়েছে।
আগের সংবাদ:
শহীদ মিনার সরানো ও পুনর্নির্মাণ কাজ স্থগিতের নির্দেশ আদালতের
শহীদ মিনারের মূলবেদি স্থানান্তর: পৌর মেয়রকে শোকজ
‘প্রভাবশালীর’ বাড়ির জন্য শহীদ মিনার স্থানান্তর!