শহীদ মিনার সরানো ও পুনর্নির্মাণ কাজ স্থগিতের নির্দেশ আদালতের

Send
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:২৬, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩০, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

শহীদ মিনারের পেছনের বহুতল ভবনটি সুমন খান নামে এক ব্যবসায়ীর। ওই ভবনে প্রবেশের কোনও রাস্তা নেই। স্থানীদের অভিযোগ ওই ব্যবসায়ীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য শহীদ মিনারটির বেদি স্থানান্তর করা হচ্ছে। এজন্য পুনর্নিমাণের সময় নকশাটিও প্রদর্শন করা হচ্ছে না।

লালমনিরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির মূল বেদি সরিয়ে পুনর্নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাটের সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) আদালতের বিচারক সুরাইয়া বেগম এই আদেশ দেন। এ আদেশে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে একটি নালিশি মামলার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।

মামলার বাদী লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক সৈয়দ সুফি তাহেরুল ইসলাম ওই আদালতে দায়ের করা এক নালিশি মামলায় অভিযোগ করেন, লালমনিরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মাণের নামে এর মূল বেদি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং শহীদ মিনার চত্বরের ভেতরে এক কোনায় স্থাপন করা হচ্ছে। মূলত শহীদ মিনারের পেছনের এক ভবনের মালিককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৪৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত শহীদ মিনারটির বেদি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ করা হলেও এর কোনও নকশা প্রদর্শন করা হচ্ছে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেদিটি আগের জায়গায় অক্ষত রাখার আবেদন জানান তিনি।
বিষয়টি আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘বাদীর নালিশি অভিযোগের শুনানি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, লালমনিরহাট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

লালমনিরহাটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, ‘বাদীর নালিশি অভিযোগে লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়রকে শোকজ নোটিশের পর এবার আরেক অভিযোগে বেদি না সরানো এবং পুনর্নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা চাই যেন কোনও পক্ষই আদালত অবমাননা না করে।’

লালমনিরহাট সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) আদালতের নাজির নুরুজ্জামান আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মূল বেদির স্থান অবিকৃত রেখে শহীদ মিনারটি পুনর্নিমাণের দাবি স্থানীয়দের।লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক ও মামলার বাদী সৈয়দ সুফি তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মিনারের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আদালতের রায়ে খুশি। রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে শহীদ মিনার ও মূল বেদি যাতে না সরানো হয় এবং কাজ বন্ধ রাখা হয়। যদি আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়, তাহলে আদালত অবমাননার নালিশ করা হবে।’

এই ঘটনায় মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন

এদিকে, শহীদ মিনারের বেদি সরানোর প্রতিবাদে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এর ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জেলা ছাত্র ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নীলাঞ্জন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা মানববন্ধন করেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফিজ, সহ-সভাপতি ডা. আশিক ইকবাল মিলন, কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মধুসূদন রায়, লালমনিরহাট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক সৈয়দ সুফি মো. তাহেরুল ইসলাম, নীলাঞ্জন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়কারী রাজু ভুঁইয়া, সাপ্তাহিক আলোর মনি’র সম্পাদক মাসুদ রানা রাশেদ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহিমা রঞ্জন রায় হৃদয় প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। এই রায় বাস্তবায়ন না করা হলে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আমরা লড়াই করবো। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন সুমন খানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ করে জনগণের দাবিকে সম্মান দিয়ে আগের অবস্থায় এবং জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে।’

উল্লেখ্য, লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ১৯৭২ সালে থানা রোডের কালীবাড়ি মোড়ে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন পর লালমনিরহাট পৌরসভার অর্থায়নে গত ২০ জানুয়ারি এর পুনর্নির্মাণ শুরু হয়। 

আরও পড়ুন:

শহীদ মিনারের মূলবেদি স্থানান্তর: পৌর মেয়রকে শোকজ

 

 

 

 

/এনএস/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ