মাঝরাতে স্থগিত শিবগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

বগুড়াআট বছর পর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দিন ধার্য হয়েছিল রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে। স্থানীয় সরকারি এমএইচ ডিগ্রি কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরি, প্রবেশ মুখে তোরণ নির্মাণ ও ব্যানার-ফেস্টুনে পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। তবে জেলা আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে শনিবার মধ্যরাতে সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কিন্তু শাস্তির ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস করছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সর্বশেষ শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আট বছর পর আয়োজিত সম্মেলনকে সামনে রেখে ১২ ইউনিয়নের ১০৮ ওয়ার্ড কমিটি নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। ১২ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৫টির সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে ১২ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ৩১ জন করে ৪০৩ জন, উপজেলা কমিটির ৬৭ জন এবং কো-আপ্ট ১৫ জন সদস্য মিলে মোট ৪৮৫ জন ভোটার ছিলেন। রবিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন। পুরো উপজেলা জুড়ে নেতাকর্মীদের মাঝে সাজ সাজ রব ছিল। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নামে ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই সম্মেলন স্থগিত করে জেলা আওয়ামী লীগ।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা বলেন, ‘সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর রাত সাড়ে ১১টায় জানতে পারি জেলা কমিটি সম্মেলন স্থগিত করেছে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানানো হয়নি।’ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুল হক বলেন, ‘রাতের আঁধারে রহস্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলের সম্মেলন স্থগিত গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেক ঘাম, পরিশ্রম, আশা-আকাঙ্ক্ষা জড়িত থাকে। নেতৃবৃন্দকে এই বিষয়গুলো বুঝতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, ‘সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কিছু অনিয়ম ছিল। গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়নি সবকিছু। এজন্য সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আগামীতে জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বাকি ইউনিয়নগুলোর সম্মেলনে কমিটি গঠন করবেন। এরপর উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু সম্মেলন স্থগিত ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ছিল। এত কম সময়ে এই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা সম্ভব ছিল না। তাই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারি মাসে এই উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।’