ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে হামলায় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজত আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ও শিক্ষা পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী। শনিবার (২৭ মার্চ) গলমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ডাকে রবিবার (২৮ মার্চ) সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে হরতাল কর্মসূচি পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, 'মোদির আগমনের প্রতিবাদে ঢাকা বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারী, যাত্রাবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরত তৌহিদি জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে আনুমানিক ছয় জনকে শহীদ করা হয়েছে এবং গুলি ও টিয়ারস্যাল নিক্ষেপে আরও প্রায় চারশ' জন রক্তাক্ত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এভাবে পুলিশের গুলিবর্ষণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। কার নির্দেশে নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর এভাবে হামলা ও শহীদ করা হলো, এর জবাব প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।'
হেফাজত আমির আরও বলেন, তৌহিদি জনতার এ আন্দোলন দেশ কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না। এই আন্দোলন ছিল মুসলমানদের রক্তখেকো, বাবরি মসজিদ ধ্বংসকারী মোদি বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তৌহিদি জনতার ওপর পুলিশের এমন বর্বরোচিত হামলা বরদাশত করা যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, 'ঢাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মোদির আগমনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তৌহিদি জনতা। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনরতের ওপর হামলার সংবাদ পাওয়া গেছে। হাটহাজারীতে পুলিশের গুলিতে চার জন শহীদ হন। শহীদদের গা থেকে ঝরা এ রক্ত কভু বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।পুলিশের গুলিতে নিহতদের প্রতি ফোঁটা রক্তের বদলা নেওয়া হবে।'
পুলিশের গুলিতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকার ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান বাবুনগরী।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হেফাজত আমির বাবুনগরী বলেন, মোদি ইস্যুতে যদি আর একজনেরও রক্ত ঝরে বা ওলামায়ে কেরামকে হামলা-মামলা ও হয়রানি করা হয়, তাহলে এর প্রতিবাদে পুরো দেশে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে। প্রয়োজনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।