ঘূর্ণিঝড় ইয়াস অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে বুধবার ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। এজন্য বিদেশি পতাকাবাহী চারটি জাহাজ মোংলা বন্দর ত্যাগ করতে পারেনি। বন্দরের হিরন পয়েন্টে থাকা পাইলট স্টেশন থেকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞার এ বার্তা দেওয়া হয়। বিদেশি এই চারটি জাহাজ মঙ্গলবার সকালে পণ্য খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করার কথা ছিল।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ২৪ মে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ সেনা, সেনা-৮ ও সুমি-৫ এলপিজি (তরল গ্যাস) নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে এবং ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী মিরাটুস পরনটালো জাহাজ কন্টেইনার নিয়ে আসে গত ২৩ মে।’
তিনি জানান, এসব জাহাজের পণ্য খালাস শেষে আজ বন্দর ত্যাগ করার কথা থাকলেও সমুদ্র উত্তাল থাকায় বন্দরের হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরী কোঠায় নিরাপদে শিফটিং করা হয়েছে। তবে বন্দরে থাকা অন্য সাতটি পণ্যবাহী জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজ চলছে। চার নম্বর সংকেত জারি না হওয়া পর্যন্ত পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ করা হবে না।
এদিকে মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে দুবলার চরে চার থেকে পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান দুবলা টহল ফাঁড়ির ওসি প্রহ্লাদ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘দুবলায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে।’
দুর্যোগ মোকাবিলায় মঙ্গলবার (২৫ মে) সকালে উপজেলায় জরুরি সভা করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। তিনি দুর্যোগে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ করে বলেন, ‘সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে আসছে, এবারও তাই হবে।’
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, পৌর মেয়র শেখ আব্দুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জীবিতেষ বিশ্বাস, প্রকল্প কর্মকর্তা মো. নাহিদুজ্জামান, মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা লিটন হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।