অবশেষে বেনাপোল স্থলবন্দর সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সংগঠনের দাবিতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আমদানি পণ্যের নিরাপত্তায় এখানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পুরো বন্দর এলাকায় ৩৭৫টি আধুনিক সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এর পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। এই সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। দীর্ঘদিন পরে হলেও সিসি ক্যামেরা বসানোয় খুশি বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের ধারণা, সিসি ক্যামেরা বসানোর ফলে বন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পণ্য আমদানি থেকে শুরু করে খালাস কার্যক্রমের পুরো তদারকি নজরদারিতে থাকবে।
বন্দরের বাইপাস সড়ক, পণ্যগার, ভারতীয় ট্রাক ও চ্যাসিজ টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল, ঢাকা-কলকাতা মহাসড়কসহ বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় উন্নতমানের এসব সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। প্রাথমিক অবস্থায় মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল সংযোগ ও প্লার নির্মাণের কাজ চলছে। স্মার্ট টেকনোলজি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ করছে।
ট্রাক চালক চঞ্চল জানান, বন্দরের মধ্যে ট্রাক রেখে সব সময় চিন্তায় থাকতে হতো। চোরেরা কখন জানি গাড়ির বিভিন্ন মালামাল চুরি করে। সিসি ক্যামেরা বসানোতে সে চিন্তা দূর হবে।
আমদানিকারক তামান্না এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহেল হোসেন বলেন, ‘বন্দর থেকে আমদানি পণ্য চুরি হয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী এ পথে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন। সিসি ক্যামেরা বসানোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়লে যারা এ বন্দর থেকে চলে গেছেন তারা আবার ফিরে আসবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ভারতীয় ট্রাকে অবৈধভাবে পণ্য বন্দর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাচার হচ্ছে। আমদানি পণ্য চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মে ব্যবসায়ীরা যারা এ পথে আমদানি বন্ধ করেছেন। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হবে এবং তারা আবার ফিরে আসবেন।’
সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। আমদানি বাণিজ্য থেকে সরকারের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু বন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আজও অবহেলিত। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি সিসি ক্যামেরার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এটি বন্দরে পণ্য চুরিসহ নানান অব্যবস্থাপনা রোধ ও আমদানি পণ্যের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে।’
স্থলবন্দরের উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) খোরশেদ আলম জানান, প্রাথমিক অবস্থায় মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল ও প্লার বসানোর কাজ চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিসি ক্যামেরা বসানোর সব কাজ সম্পন্ন হবে।
বন্দরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বন্দরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের। এখন সে স্বপ্ন তাদের পূরণ হতে চলছে।
আরও খবর: সিসি ক্যামেরার আওতায় আসেনি বেনাপোল স্থলবন্দর, ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা