শারদীয় দুর্গাপূজা: রাজবাড়ীতে ৪৩৪ মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আর কয়েকদিন পরই শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ পূজাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলার মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। এজন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর মৃৎশিল্পীরা। আগামী ১ অক্টোবর দুর্গাপূজা শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজবাড়ী জেলায় মোট ৪৩৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজবাড়ী সদরে ১০২টি মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও গোয়ালন্দ উপজেলায় ২৩টি, পাংশায় ১০২টি, কালুখালিতে ৫৫টি এবং বালিয়াকান্দিতে ১৫২টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দাস জানান, এই দুর্গাপূজার পাশাপাশি আগামী কার্তিক মাসে আরও ২৯টি কাত্যায়নী (দুর্গাপূজার আরেক রূপ) পূজাসহ জেলায় মোট ৪৬৩টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন মন্দিরে দেখা যায়, শিল্পীরা নিপুণ হাতে তৈরি করছেন প্রতিমা। এখন চলছে রঙতুলির কাজ। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।

রাজবাড়ী পৌর এলাকায় বড়পুল হরিতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় শ্রী দেবনাথ পালকে। তিনি বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে এই প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। আমার বাপ-দাদাও প্রতিমা তৈরির কাজ করতেন। মৌসুম এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তা ছাড়া সারাবছর বসেই থাকতে হয়। এ বছর আমি সাতটি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিচ্ছি।’

বড়পুল হরিতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সভাপতি গণেশ মিত্র বলেন, ‘আমাদের মন্দিরে প্রতি বছরই শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন হয়। এ বছরও হচ্ছে। এখন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। গত বছর করোনার কারণে সীমিত করা হয়। এ বছরও করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত করা হবে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটি থেকেও আমাদের কিছু দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এ বছরেও উৎসবটি জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হবে। আমাদের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়া নির্দেশনা মেনেই পূজা উদযাপন করা হবে। এ বছর রাজবাড়ী জেলায় ৪৩৪টি মন্দিরের পূজা উদযাপনের আয়োজন চলছে। আমরা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।’

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার (এসপি) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, ‘পূজায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মন্দিরেই জেলা পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম পুলিশের স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে। এ ছাড়াও র‍্যাবের মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। দেবী বিসর্জন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে। বড় মন্দিরগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’