মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রসঙ্গে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘তার সময়কালে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে আধুনিক মানুষ। তার পড়াশোনা, তার সাহিত্য, তার রুচি– সবকিছুই ছিল আধুনিক।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর সরকারি এমএম কলেজ প্রাঙ্গণে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘দুইশ বছর আগে যখন আমরা ফিরে যাবো, দেখবো “বেঙ্গল রেনেসাঁ”। তখন সেটি ছিল সেই সময়কার আধুনিকতা। আধুনিকতা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে আসে। বর্তমানে আমরা আধুনিকতা বলতে বুঝি– ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি-আইসিটি, তথ্য-প্রযুক্তিসহ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এআই। এর সঙ্গে যদি বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ বা বিভিন্ন ধরনের গবেষণার কথা বলি, সব ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হচ্ছে শিক্ষা। আর এই বঙ্গে শিক্ষার পীঠস্থান হচ্ছে সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ, যার নামকরণ করা হয়েছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে। তিনি আমাদের যশোর জেলার কৃতী সন্তান।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামোগত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায়, কোভিড মহামারিতে কার্যকর পদক্ষেপ এবং সব নাগরিককে ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে যা করেছেন, সেগুলোতেও রয়েছ আধুনিকতার ছোঁয়া।’
আগামী পাঁচ বছরে দেশের অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘শেখ হাসিনা পঞ্চম বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে এই মেয়াদে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনেক ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এতে অবশ্যই যেন যশোর তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব ও অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমিসহ অন্য সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব থাকবে, সেটি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখা।’
‘আমি এমএম কলেজের প্রিন্সিপ্যাল মহোদয়কে অনুরোধ করছি, ১৯৪১ সালের পর থেকে এই কলেজের সাবেক ছাত্র যারা দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন, তাদের নাম লিপিবদ্ধ করতে। সেগুলো যেন রেকর্ড হিসেবে থাকে।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এই প্রথম যশোর সরকারি এমএম কলেজে মহাকবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালন করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে অনেক কিছুর মধ্যে এই সময়ে একটি অডিটরিয়াম জরুরি। আমি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে আলাপ করবো, এবং এই মেয়াদকালে যেন কলেজের একটি অডিটরিয়াম নির্মাণ সম্ভব হয়, সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখবো।’
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আহসান হাবীব, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মদন কুমার সাহা।
আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আহসান মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ছাত্রলীগ এমএম কলেজ শাখার সদস্য শেখ ইব্রাহিম সাগর, ওহিদুল ইসলাম রাব্বি প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে শুভেচ্ছা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনসিসি সদস্যরা তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।