যশোরে কাজী নাবিল এমপি

‘তরুণরা কর্মক্ষম হলে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে’

যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা এখন সবচেয়ে বেশি। তরুণদের যত বেশি কর্মক্ষম করতে পারবো, তত বেশি বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবসম্পদ উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর বাদশাহ্ ফয়সল ইসলামী ইনস্টিটিউটের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ৩৩ ইভেন্টে ৩৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ ও মধ্যম আয়ের দেশের ঘোষণা দেন। ইতোমধ্যে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাতৃসেবা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন-  সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। তিনি সারা দেশে সুষম উন্নয়ন করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশের ঘোষণার কথা উল্লেখ করে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘২০৪১ সালে উন্নত দেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশের যারা নাগরিক হবেন, তারাই হবেন দেশের মূল চালিকাশক্তি। আর তারা হচ্ছেন আমাদের সামনে বসে থাকা ছাত্ররা। সেই সময় আমাদের অনেকেরই বয়স হয়ে যাবে। রাজনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক সব কর্মকাণ্ডে তারাই নেতৃত্ব দেবেন। সে কারণে আজকের শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ধনসম্পদ, বাড়ি-গাড়ি সবকিছুই নিয়ে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু বিদ্যা এমন সম্পদ যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। শিক্ষা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। তোমরা যদি সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত হও তাহলে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এমনকী বাইরের দেশেও দায়িত্ব পালন করতে পারবে। কেননা আমরা এখন গ্লোবাল ভিলেজের নাগরিক।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বায়নের এই যুগে তোমাদের ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে। মনে রেখো, লেখাপড়ার সঙ্গে কোনও কম্প্রোমাইজ নয়। যত কাজই করো না কেন, সবকিছুই পরে করতে পারবে। কিন্তু ক্লাসের সময়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়কাল চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, শিক্ষকদের কাছ থেকে পাঠগ্রহণ করে সুশিক্ষিত হয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সবুর হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম এবং ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা মুযহারুল ইসলাম মন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাসুদুল হাসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এরপর তিনি যশোর জেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক ফিরোজ আলমের পুরাতন কসবা বিবি রোড এলাকার বাসভবনে যান। তিনি অসুস্থ এই যুবলীগ নেতার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।