চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার লকার থেকে গ্রাহকের এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের ১৫০ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েব হলেও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাবেন মাত্র দুই লাখ টাকা। সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটাই জানিয়েছেন ব্যাংকটির ওই শাখার ম্যানেজার এসএম শফিকুল মাওলা চৌধুরী।
শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, ‘ব্যাংকে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি কিংবা কোনও কারণে লকারে রক্ষিত জিনিস মিসিং হলে গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারীর সঙ্গে আমাদের যে এগ্রিমেন্ট (চুক্তি) হয়েছে সেই অনুযায়ী করপোরেট ইন্সুরেন্স কাভারেজ পাবেন। এ ক্ষেত্রে ছোট লকারের ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা, মাঝারি লকারের ক্ষেত্রে দুই লাখ টাকা এবং বড় লকারের ক্ষেত্রে তিন লাখ টাকা করে করপোরেট ইন্সুরেন্স পাবেন। গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী মাঝারি লকার ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে তিনি দুই লাখ টাকা করপোরেট ইন্সুরেন্স কাভারেজ পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘গত ২৯ মে (বুধবার) আমাদের গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী অভিযোগ করেন, তার লকারে রাখা জিনিসপত্র ঠিকমতো পাননি। এরপর গ্রাহক মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন, লকার থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ মিসিং হয়েছে। গ্রাহককে বলেছি, এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। গ্রাহক কী রেখেছেন তা তিনি ভালো জানেন। আমার মনে হচ্ছে, স্বর্ণ মিসিং সংক্রান্ত অভিযোগটি মিথ্যা। লকার থেকে স্বর্ণ চুরি, ডাকাতি কিংবা গায়েব হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। লকারে গ্রাহক কী রাখছেন তা জানার আমাদের সুযোগ নেই। তবে লকারে দাহ্য পদার্থ ও আগ্নেয়াস্ত্র না রাখার বিষয়ে আমরা ডিক্লারেশন নিয়ে থাকি। অন্য জিনিসের বিষয়ে ডিক্লারেশন নেওয়ার নিয়ম নেই। লকার সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব সার্কুলার মেনেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকি।’
রোকেয়া আক্তার বারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার পারিবারিক স্বর্ণালংকার নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকের লকারে রেখেছি। এখানে ১৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল। এগুলো আমার দুই ছেলের স্ত্রী, আমার মেয়ে ও আমার নিজের ছিল। এর মধ্যে ১৫০ ভরির মতো গায়েব হয়েছে। লকারে ছিল মাত্র ১০ থেকে ১১ ভরির মতো স্বর্ণ। এগুলো গায়েব হওয়ার পেছনে ব্যাংক কর্মকর্তারাই দায়ী। লকারের চাবি আমারটা আমার কাছে থাকে। আরেকটা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে। আমি লকারটা খোলা অবস্থায় পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তার দুই লাখ টাকা দেওয়ার যুক্তি আমি মানি না। আমার গায়েব হওয়া স্বর্ণ ফেরত চাই। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি চাই।’