সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিরুদ্ধে এখনও মামলা হয়নি। শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার।
ওসি বলেন, ‘শনিবার ভোরে সাবেক এই বিচারপতিকে মামলা ছাড়াই সিলেটের কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরপর পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে সময় বিজিবি জানায় মামলা করবে। তখন সব প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়। বিজিবি এখনও অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। এলে মামলা হিসেবে অভিযোগটি নথিভুক্ত করে সাবেক বিচারপতি মানিককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার মো. আসাদুন্নবীর মোবাইল ফোনে শনিবার বেলা ১টা ৫৪ মিনিটে পুনরায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এর আগে শুক্রবার (২৩ আগস্ট) অবৈধভাবে সিলেটের কানাইঘাট (দনা) সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় মানিককে আটক করে বিজিবি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মানিককে বলতে শোনা গেছে, টাকা লাগলে তিনি দেবেন। তার ভাইবোন দেবেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি এ দেশে (ভারত) এত কষ্ট করে এসেছি কি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য?’
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক বিচারপতির গলায় গামছা বেঁধে ধরে রেখেছেন একজন ব্যক্তি। আরেকজন তার নাম জিজ্ঞেস করছেন। এ সময় বিচারপতি মানিক তার পুরো নাম বলেন এবং বাড়ি মুন্সীগঞ্জ বলে জানান।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই বিচারপতি অনেকটা অসহায় হয়ে বলতে থাকেন, ‘আমার কাছে ছিল ব্রিটিশ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড। ভয়ে দেশ ছেড়ে যাচ্ছিলাম। এখানকার দুই যুবক বলেছিল, ১৫ হাজার টাকা দিলে সীমান্ত পার করে দেবে। ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর সেই দুই যুবক ভারত সীমান্তে আমাকে নিয়ে যায়। সীমান্তে নিয়ে মারধর করে আমার কাছে থাকা ৬০-৭০ লাখ টাকা এবং মোবাইল ফোন নিয়ে যায় তারা। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কলার পাতার ওপর শুইয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, দনা পাতিছড়া গ্রামের রফিকুল হোসেনের ছেলে সাদ্দামের সহায়তায় অবৈধভাবে শুক্রবার বিকালের দিকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। পরে তাকে দনা বিজিবির সদস্যরা আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যান। সাদ্দামের বাড়িটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তঘেঁষা। সে ভারতে অবৈধভাবে বিভিন্ন সময়ে প্রবেশ করে থাকে।