নেত্রকোনায় আবারও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮ থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়।
এর আগে, গত দুদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং উজানের পাহাড়ি ঢল বন্ধ থাকায় ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছিল জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি।
এরই মধ্যে বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পড়েছে জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলা, বারহাট্টা ও সদর উপজেলার শতাধিক গ্রাম। প্লাবিত হয়েছে মানুষের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তলিয়ে গেছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান। ভেসে গেছে দুই শতাধিক ফিশারি ও পুকুরের মাছ। বন্ধ রয়েছে বন্যাকবলিত এলাকার ১৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের শুকনাকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘দুই বৃষ্টি আছিল না। পানিও কিছুডা কমতাছিন। অহন আউজগা সহাল থাইক্যে বৃষ্টি শুরু অইছে। বৃষ্টি যদি না কমে তাইলে বন্যার অবস্থা আবার খারাপ অইয়া যাইবো। আমরারও বিপদ বাড়লো।’
এদিকে, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানি বিজয়পুর পয়েন্টে কমে বিপদসীমার ৪৬৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, একই নদীর দুর্গাপুর পয়েন্টেও পানি কমে বিপদসীমার ২১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছিল। কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে স্থিতিশীল ছিল এবং বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উব্ধাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে কমলেও তা বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। কিছুটা বাড়ছিল ধনু নদের পানি। তবে তা বিপদসীমার ১৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।