রাঙামাটিতে বৃষ্টি কমলেও জনজীবন বিপর্যস্ত

রাঙামাটিতে ভারী বৃষ্টি কমলেও এখনও জনজীবন বিপর্যস্ত। নিচু এলাকা থেকে পানি সরতে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকে কিছুটা রোদের দেখা পাওয়া গেলেও দুপুর থেকে আবারও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার সন্ধ্যায় টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে জেলার কয়েকটি উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছিল। বৃষ্টি কমে আসায় পানি নামতে শুরু করেছে।

টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পাহাড় ও সড়ক ধসের ঘটনা ঘটে। সড়কের ওপর পাহাড়ধসের মাটি পড়ে সাময়িকভাবে কিছু সড়কে যান চলাচল বন্ধ হলেও সড়ক বিভাগের তৎপরতায় আবারও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে কাউখালী ও জুরাছড়িতে দুটি সড়ক ধসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রবল বৃষ্টিতে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় কাউখালী-ঘিলাছড়ি সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ে। জুরাছড়ি উপজেলার যক্ষা বাজারে সড়ক ধসে পড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে ওই এলাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারী বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে পাহাড়ি ঢলে জুরাছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ির কিছু এলাকা প্লাবিত হলেও বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় পানি নামতে শুরু করেছে।

রাঙামাটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ২৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। টানা বর্ষণে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৩টি বসতঘর। যা আরও বাড়বে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬২৮০ হেক্টর জমি। জেলায় ৫৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র অবজারভার কেচিনু মারসা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুর আমিন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলে জুরাছড়ির কিছু এলাকা প্লাবিত হলেও পানি নামতে শুরু করেছে। জুরাছড়ি উপজেলার যক্ষা বাজারে সড়কটি ধসে পড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে ওই এলাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ঢলের কারণে মেরামতের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।’

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ‘দুর্যোগকালে স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টিম কাজ করছে। এ ছাড়াও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ টিম। একই সঙ্গে রাঙামাটি শহরের দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।’