চট্টগ্রামজুড়ে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দুই দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কমতে থাকে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকাল থেকে এ সংকট বেড়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প-কারখানা, সিএনজি স্টেশন, হোটেল-রেস্টুরেন্টেও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। সকাল থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষাকৃত গাড়ির সংখ্যা যেন বাড়তে থাকে। গ্যাস সংকটের কারণে সড়কে গণপরিবহন চলাচল কমেছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এখন বঙ্গোপসাগর উত্তাল অবস্থায় আছে। সাগরের ঢেউয়ের কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরের কাট্টলী, খুলশী, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, মোহরা, বাকলিয়া, চকবাজার, মুরাদপুরসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা নুরুল মোস্তফা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। মিটমিট করে চুলা জ্বলতে থাকে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে প্রায় সম্পূর্ণ গ্যাস বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো হোটেল থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিজিএমইএ'র সাবেক সহসভাপতি রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারনে বুধবার দুপুর থেকে কারখানা বন্ধ রয়েছে। গ্যাস পাওয়ার পর পুনরায় কারখানা চালু হবে। গ্যাস সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হয় আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।'
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিউল আজম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহেশখালীতে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজিবাহী দুটি জাহাজ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে বুধবার থেকে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও গ্যাস সরবরাহ কমেছে। আজ সকালে দুটি জাহাজের মধ্যে একটি জাহাজ গ্যাস সরবরাহের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ সংকট কেটে আসবে।'
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে ২৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বর্তমানে বৃহস্পতিবার মিলছে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাপ কমেছে।'
এদিকে, বুধবার (১৮ জুন) এক বার্তায় পেট্রোবাংলা জানায়, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এফএসআরইউতে (ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) মঙ্গলবার ও বুধবার এলএনজি কার্গো বার্থিং (জাহাজ ভেড়ানো) করতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সেন্ড আউট (গ্যাস সরবরাহ) ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এর ফলে, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।