রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেক যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী জিপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে সাজেকের হাউজ পাড়া নামক এলাকায় গাড়িটি রাস্তা থেকে তিনশ ফুট নিচে পড়ে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইকবাল হোছাইন।
নিহত পর্যটকের নাম রুবিনা আফসানা রিংকি বলে জানা গেছে। নিহত ও আহতরা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
নিহত রুবিনা আফসানা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোমরপুরের শিক্ষক দম্পতি আব্দুর রহমান ও জান্নাতুল ফেরদৌসের মেয়ে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী জিপ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে এক নারী পর্যটক নিহত হন। সেনাবাহিনী, পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এবং খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল জানান, খুবির শিক্ষার্থীদের বহনকারী জিপ গাড়িটি (চান্দের গাড়ি) উচু রাস্তায় উঠতে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গাড়িটি ঢালে গিয়ে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এতে এক ছাত্রী নিহত ও গাড়িতে থাকা ১২ জন আহত হন। আহতদের রাঙামাটির দিঘিনালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ট্যুরে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেশনাল ট্যুরে রওনা হন। এই টিমে ৩৮ জন শিক্ষার্থী, বিভাগীয় প্রধানসহ ৪ জন শিক্ষক এবং ২ জন সাপোর্টিং স্টাফ ছিলেন। বুধবার সাজেক যাওয়ার পথে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি চান্দের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই গাড়িতে একজন শিক্ষক ও ১১ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন নিহত এবং অন্যরা আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দিঘিনালা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার রুবিনা আফসানা রিংকির আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবার দোয়া প্রার্থনা করছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদসহ সব উপাসনালয়ে নিহত শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জেনেছি।’