সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে সোমবার থেকে কাজে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এর আগে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় রবিবার পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন তারা। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের রোগীরা।
রবিবার দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে আবার বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আনসারদের হাসপাতালের জায়গায় ডিউটি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মেডিক্যাল পরিচালক৷এ ছাড়া মোট আটটি বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিজেদের দাবি-দাওয়া জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তবে মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা আগামীকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে কাজে যোগ দেবো।’
ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎকরা আমাদের দাবি মেনে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরাও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। ইতোমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
যেসব দাবি জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
১. হাসপাতালে প্রতিটি অ্যাডমিশন ইউনিটে দুই জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড+একজন নারী ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এ ছাড়া ইভিনিংয়ে এক ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবেন। আর রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই জন অ্যাটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিজিটিং টাইম চালু করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কোনও অবস্থায় একজন রোগীর সঙ্গে দুই জনের বেশি অ্যাটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না।
৩. পরিচালকের সঙ্গে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে। বিশেষ করে রোগী ভর্তির দিন।
৫. অধিকাংশ অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় বিষয় শেখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
৬. হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদের হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরও দ্বায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে।
৭. হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ারের ব্যবস্থা করতে হবে।
এর আগে, নারী চিকিৎসককে হেনস্থার অভিযোগে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন সিলেট বিভাগের সবচাইতে বড় হাসাপাতাল সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর রবিবার থেকে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।