‘কম সময়ের মধ্যে ঈদযাত্রা স্বস্তির ও নির্বিঘ্ন করা খুবই চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার স্বস্তির ঈদযাত্রা হবে।’ বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের সহযোগিতার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময়ের সময় মন্ত্রী এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাত্র তিন দিনের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ এবং কোরবানিযোগ্য প্রাণীকে পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের অবকাঠামো ও পরিবহন নিয়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যে কারণে ঈদ যাতায়াত নির্বিঘ্নে ও আরামদায়ক করা কষ্টকর হয়ে যায়। আমি মনে করি, সবার সহযোগিতা থাকলে, জনগণ সচেতন থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে।’
এর আগে অনুষ্ঠানে বক্তব্যে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। সঙ্গে দুটি সার্ভিস লেন হবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এবং বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক কুমিল্লা জেলায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শুক্রবার সকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জন এবং ৩৩ জন আহতের পরিবারকে চেক ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ সহযোগিতা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যার প্রধান দুটি কারণ চালকের অদক্ষতা ও আনফিট বাস। জনগণের অসচেতনতাও আছে। তবে আমাদের এসব কমিয়ে আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ভাববে।’
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব ঈমানের সঙ্গে পালনের চেষ্টা করছি। দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে আসছে।’
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী আমি জানতে চাই, নিহতের সংখ্যা কত? ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কত খরচ হয়েছে?’
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক; বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।