স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানী এবং আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। আর সেই প্রভাব পড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। এই ঘাট দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৪ হাজার ৩০১ যানবাহন পারাপার হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটেও যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাট কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। যানজট ও পারাপারের সময় কমাতে বাসের যাত্রীদের আগে নামিয়ে আলাদা করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং খালি বাস ফেরিতে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌপুলিশ এবং ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ৪৯২টি যাত্রীবাহী বাস, ১৮১টি ট্রাক, ২ হাজার ৩৮৪টি মোটরসাইকেল এবং ১ হাজার ২৪৪টি ছোট গাড়ি (মাইক্রোবাস) নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে গেছে।
বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৫টি ফেরি এবং ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘাটে আসা যাত্রী ও চালকদের অনেকেই জানিয়েছেন, ঈদের আগে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষা বা যানজটের মুখে পড়তে হয়নি, তেমনি ফেরার পথেও এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের এই স্রোত আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় আপাতত স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন কর্মমুখী হওয়া মানুষজন।