ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও জরিমানা আদায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে মহাসড়কের ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপিত এক হাজার ৪২৭টি এআই ও সিসিটিভি ক্যামেরায় যানবাহনের গতিসীমা লঙ্ঘন, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট হাইওয়ের মনিটরিং সেন্টার থেকে এ সিস্টেমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হাইওয়ে পুলিশ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে অক্টোবরে শুরু হয়ে শেষ হয় গত বছরের ৩০ জুনে। এই প্রকল্পের প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৪৪ কোটি ২১ লাখ ২১ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত ১৪২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজি লিমিটেডকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ক্যামেরাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুলেট ক্যামেরা, পিটিজেড ডোম ক্যামেরা, লং ভিশন ক্যামেরা ও এআই চেকপয়েন্ট ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা স্থাপনে রয়েছে ৪৯০টি পোল।
অটো ফাইন সিস্টেমের আওতায় কোনও যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে। পরে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও থাকবে।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, স্বয়ংক্রিয় এ ব্যবস্থার ফলে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ কমবে। এতে আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি দুর্নীতির সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
একটি ডেটা সেন্টার ও পাঁচটি মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করবে জানিয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট (সোনারগাঁওয়ে) একটি ডেটা সেন্টার এবং হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, কাঁচপুর হাইওয়ে থানা, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা ও বারআউলিয়া হাইওয়ে থানায় পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ।
হাইওয়ে পুলিশের মতে, মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়ানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে অটো ফাইন সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সংস্থাটি আরও জানান, উপমহাদেশে এই প্রথম যেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসিকিউশন করে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানায় পুলিশ। মানুষের ইন্টারভেনশন ছাড়াই এআই প্রযুক্তি সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ নানা কাজ করবে। এই এআই প্রযুক্তিতে গাড়ির নম্বর স্বয়ংক্রিয় শনাক্ত করে আইন লঙ্ঘনকারীর অপরাধ অনুযায়ী অটোমেটিক তার ফোনের নম্বরে বার্তা পাঠানো হবে। এতে অপরাধের ধরন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে জানবেন গাড়ি চালকরা।









