পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য মেজর (অব.) কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহবুব আলী মুয়াদ এ আদেশ দেন। ওই মামলায় পঞ্চগড় জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নীলুফা ইয়াসমিনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মেজর (অব.) কাজী মৌসুমী ও নীলুফা ইয়াসমিন এই মামলায় উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদপূর্তিতে জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া পঞ্চগড় সদর থানায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ ১২০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। কাজী মৌসুমী ও নীলুফা ইয়াসমিন ওই মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৩ জুন রাত ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়ার খামারবাড়িতে তার স্ত্রী কাজী মৌসুমীর নেতৃত্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এতে প্রায় ১২০ জন অংশ নেন। এ সময় তারা কেক কাটার পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নগদ অর্থ ও খাবার বিতরণ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের জননিরাপত্তা বিপন্ন, সরকারকে উৎখাতের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মালামাল ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের কার্যক্রম প্রচার-প্রচারণার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে ইংরেজিতে ‘আওয়ামী লীগ নিউজ’ নামের একটি আইডিতে ২৪ জুন আপলোড করেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য হয়েও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উসকে দেওয়া ও উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাজী মৌসুমী ও নীলুফা ইয়াসমিন গত ১৭ মে হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। মেয়াদ পূর্তির আগেই তারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আমরা আসামিদের জামিন আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আমরা আদালতকে জানিয়েছি, কাজী মৌসুমী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। তার একটি ছোট ছেলে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। আর নীলুফা ইয়াসমিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তার একটি পা প্রায় অচল হওয়ার মতো অবস্থা। এসব বিবেচনায় তাদের জামিন দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।’