লঞ্চে ছুরিকাঘাতে গৃহবধূকে হত্যা, স্বামীসহ আটক ৩

Barisal Photo-Three including husband arrested after female passenger stabbed to death in launch cabin (4)ঢাকা-বরিশালগামী এমভি পারাবত-১০ লঞ্চের স্টাফ কেবিনে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ২টার দিকে  এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  

ঘটনার পর লঞ্চের যাত্রী ও স্টাফরা ঘাতকদের আটক করে রাখে। পরে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে লঞ্চটি বরিশাল ঘাটে পৌঁছালে তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

নিহত মিনা (৩০) কুমিল্লা জেলার হোমনা এলাকার বাসিন্দা।

আটককৃতরা হলেন,নিহতের স্বামী শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট ইউনিয়নের হালিম পাটোয়ারির ছেলে আনিস (২০),আনিসের চাচাতো ভাই একই এলাকার বাসিন্দা আইয়ুব আলীর ছেলে কালাম ও তার বন্ধু নওগাঁ জেলার সাঈদ হাসানের ছেলে তুষার।

বরিশাল নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘাটে অবস্থান করছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে আসলে তারা ওই তিনজনকে আটক করেন।

তিনি বলেন, আটককৃতরা সবাই ঢাকার সাভারে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। আনিস অ্যামব্রোয়েডারি, কালাম লন্ড্রি ও তুষার জুতার কারখানায় কাজ করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই সত্যরঞ্জন জানান,

প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যে ছুরি দিয়ে মিনাকে হত্যা করা হয়েছে তাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআই সত্যরঞ্জন আরও জানান, মুঠোফোনে পরিচয়ের জের ধরে রোজার ঈদের কয়েকদিন পরে ঢাকার মোহাম্মাদপুরের বাসিন্দা মিনার সঙ্গে আনিসের বিয়ে হয়।

তিনি বলেন, আনিসের ভাষ্যমতে, বিয়ের পর আনিস জানতে পারে মিনা যৌনকর্মী ও তাকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে। বিষয়টি তার চাচাতো ভাই কালামকে জানালে তারা মিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং চুক্তি অনুযায়ী আনিসের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যায় আনিস স্ত্রী মিনাকে নিয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার কথা বলে বরিশালগামী পারাবত-১০ লঞ্চের ওই মাস্টার কেবিন ভাড়া নেয়। রাত ২টার দিকে মিনা ঘুমিয়ে গেলে কালাম ও তুষার কেবিনে প্রবেশ করে। তারা ছুরিকাঘাতে মিনাকে হত্যা করে।

লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ২টার দিকে ওই কেবিন থেকে এক নারীর আর্তনাদ শুনে দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে  দরজা খুলে ওই দুই যুবক বের হয়ে যেতে চাইলে তাদের আটক করা হয়। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় এক  নারীর মৃতদেহ কেবিনের বিছানায় পরে থাকতে দেখা যায়। পরে লঞ্চে তল্লাশি চালিয়ে ছাদ থেকে আটক করা হয় ওই নারীর স্বামীকে।

আটক ঘাতক কালাম জানান, ভাইয়ের পারিবারিক  অশান্তির কথা জানতে পেরেই এ কাজ করেছেন। পাশাপাশি কিছু টাকারও দরকার ছিল তার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাইয়ের বউকে হত্যা করে তার মৃতদেহ কেবিনে ফেলে তারা পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

এদিকে, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান,আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে হাতিটি, ময়নাতদন্ত ঘটনাস্থলেই

/বিটি/