ঝালকাঠিতে ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠিঝালকাঠির শহরতলীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই এলাকার অধিবাসী এক প্রবীণ জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় ছাত্র-যুব সংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ঝালকাঠি শহরতলীর বিকনা গ্রামের এক কিশোরীকে (১৫) প্রেমের ফাঁদে ফেলে একই এলাকার মনির হোসেন ওরফে ইট মনিরের ছেলে হিমেল (২০) স্থানীয় এক চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় কৌশলে তার এক সহযোগীকে দিয়ে পুরো ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে কিশোরীকে জিম্মি করার কৌশল নেয়।
পরবর্তীতে হিমেল ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে পুনরায় দেখা করার জন্য ডাকলে সে যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপর হিমেল ও তার সহযোগীরা ধর্ষণের ভিডিওটি ইন্টারনেটের ছড়িয়ে দেয়। মূহূর্তে ভিডিওটি ঝালকাঠি শহরসহ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
তারা আরও জানায়, এ ঘটনার পর হিমেল বাবা স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্থানীয় আবদুল গনি খলিফাসহ বেশ কয়েক জনকে নিয়ে ওই কিশোরীর বাবা-মাসহ শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন।

বৈঠকে ধর্ষিতা কিশোরীর ভবিষ্যত ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমেলের বাবা মনির হোসেনকে দেড় লাখ টাকা জড়িমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পর্নোভিডিওটি নষ্ট করে ফেলাসহ ইন্টারনেট থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০০ টাকার ষ্টাম্পে সবার স্বাক্ষর গ্রহণ করে। পরে ধর্ষিতার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১লাখ টাকা ও শালিশী আয়োজনসহ শালিশদারদের ব্যয় বাবদ বাকী ৫০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই চক্রটি একাধিক মেয়ের সঙ্গে এ ধরনের অপকর্ম করে পর্নোগ্রাফী তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাই বিষয়টি পর্নোগ্রাফী আইনের আওতায় নিয়ে উক্ত ধর্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্যাতিত কিশোরীসহ তার পরিবারকে রক্ষার দাবি জানিয়েছে।

/এমডিপি/আপ- এইচকে/

পড়ুন: পাচারের ১২ বছর পর দেশে ফিরে বাবা-মাকে খুঁজছে বেলাল