বিসিসি অচলের পেছনে অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে: মেয়র কামাল

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আট দিন ধরে লাগাতার আন্দোলনে বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়র আহসান হাবিব কামাল। সোমবার বিকালে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলন করছেন মেয়র আহসান হাবিব কামালমেয়র বলেন, ‘সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে এভাবে আন্দোলন করা যায় না। তারা নিয়ম ভেঙে আন্দোলনে নেমেছেন। নগরবাসীর প্রাপ্য সেবা পেতে যারা সমস্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারলেও, নতুন ঝামেলা এবং জটিলতা এড়ানোর জন্য এখনও তা করা হচ্ছে না।’
বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে করপোরেশনের মেয়র বলেন, ‘সাবেক মেয়র শওকত হোসেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রেখেই চেয়ার ছাড়েন। এরপর আমার মেয়র থাকার সময় দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। করপোরেশনের যে আয় রয়েছে তাতে আমরা ১ হাজার ১০০ জনের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করতে পারব। তবে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে স্টাফ রয়েছেন প্রায় ২ হাজার ২০০ জন। যাদের বেতন পরিশোধ করা খুবই কষ্টকর। তবু আমরা বলেছি, জুন মাসের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু তারা সব বকেয়া ১ মাসের মধ্যেই দিতে বলছে। এটা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র আহসান হাবিব কামাল আরও বলেন, ‘করপোরেশনের প্রয়োজন বা আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা না করেই সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার, শওকত হোসেন হিরণ অস্থায়ী বা স্থায়ী অনেক লোকের নিয়োগ দিয়েছেন। এই অতিরিক্ত লোকবলই বিসিসির সমস্যা। এখন ১২ কোটি টাকা হলে এই সমস্যা নিরসন করা সম্ভব।’

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র এ কে এম শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সিটিতে ১২ কোটি টাকা ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। যা এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই উত্তলোন করতে পারছেন না। এই ট্যাক্স তুলতে পারলে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া আমরা স্থায়ীভাবে করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ১০০ জনকে চেয়েছি। সেটা মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হয়ে এলেই বাকিদের ছাঁটাই করে সমস্যার সমাধান করা হবে।’