গৌরনদীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ : আহত ১১

বরিশাল

আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলের জের ধরে সোমবার সকাল ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

খবর পেয়ে গৌরনদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির ভূইয়াকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গৌরনদী থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ টহল দিচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলেজ ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আরিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা  প্রতিপক্ষের সঙ্গে অংশ নিয়ে স্কুল ছাত্রলীগের কর্মীদের মারধর করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য হাসিব হোসেনের সঙ্গে ওই কলেজের ক্রীড়া সম্পাদক আরিফ মিয়া গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক বার হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকালে কলেজ ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আরিফ মিয়ার সমর্থক গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সাব্বির ভূইয়া স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য হাসিবের সমর্থক দশম শ্রেণীর ছাত্র ইমন সরদারকে চড়থাপ্পর মারে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক হাসিবের সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালিয়ে সাব্বিরকে পিটিয়ে আহত করে।

এ খবর  ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে বেলা ১১টার দিকে স্কুল ক্যাম্পাস ও স্কুল সংলগ্ন সরকারি গৌরনদী কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

হামলা ও সংঘর্ষে এবং পুলিশের লাঠিচার্জে কলেজ ছাত্রলীগের নেতা আরিফ মিয়া, সাব্বির সেরনিয়াবাত, হৃদয় সরদার, কাজী তুষার, নাঈম খলিফা, টিটু বেপারি, স্কুলছাত্র সাইফুল, আনান, রবিউলসহ ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

আরও পড়ুন: নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সিলেটে জোড়া খুন