প্রকাশ্যে ঘুরলেও ধর্ষণ মামলার আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ!

ধর্ষণ মামলার আসামি শহীদুল ইসলামধর্ষণ মামলার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাকে গ্রেফতার না করার অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও পুলিশ বলছে, আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের এমন ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার বাদী সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে নলছিটির লুৎফর গাজী ও শহীদুল ইসলাম ওরফে কবর শহীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে বাগেরহাটের কচুয়া থানায় গত ২ জুন মামলা করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ঢাকায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে নিয়ে ২ জুন ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন দুই আসামি। পরে তাকে কচুয়া থানাধীন খলিশাখালী গ্রামের নয়ন শেখের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ওই দুজন ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। রাতে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে কচুয়া থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতেই লুৎফর গাজী ও শহীদুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করেন তিনি।

মামলার পর ৩ জুন কচুয়া থানা থেকে নলছিটি থানায় আসামিদের গ্রেফতারপূর্বক নাম-ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য অনুসন্ধান স্লিপ (আইএস) পাঠানো হয়। কিন্তু এলাকায় থাকার পরও নলছিটি থানা পুলিশ শহীদুলকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি আসামিরা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কচুয়া থানার পরিদর্শক সরদার ইকবাল হোসেন জানান, ‘শহীদ ও লুৎফরকে গ্রেফতার করতে নলছিটি থানায় অনুসন্ধান (আইএস) স্লিপ পাঠানো হয়েছে। তারা এখনও কোনও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেননি বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

অনুসন্ধান স্লিপের দায়িত্বে থাকা নলছিটি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক কুহিন আহমেদ শিপনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মামলার বাদী নলছিটি থানায় যোগাযোগ না করায় মামলাটি সাজানো বলে মনে হয়েছে। এটি মিথ্যা মামলা। কচুয়া থানার পুলিশ চাইলে তাকে গ্রেফতার করে নিতে পারে।’