ছেলেধরা সন্দেহে বৃদ্ধাকে নির্যাতনসহ চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা, আটক ১

ছেলেধরা সন্দেহ মারধরে আহত নারী হাসপাতালে ভর্তি, তাকে দেখে চিকিৎসার জন্য সহযোগীতা করছেন গৌরনদী থানার ওসিবরিশালের গৌরনদীতে ছেলেধরা সন্দেহে আমিরন নেছা (৬৫) নামে এক নারী ভিক্ষুককে মারধর করে চোখ উঠিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে শিশুর স্বজনরা। বুধবার এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা গ্রামে ওই বৃদ্ধা নারীর ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত নারী আমিরন নেছা মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদি এলাকার হাকিম তালুকদারের স্ত্রী।

গৌরনদী থানার ওসি মুনিরুল ইসলাম মুনির জানান, বুধবার দুপুরে তিনি ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আফজাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কালকিনি হাসপাতালে গিয়ে ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থসাহায্য দিয়ে এসেছেন। এছাড়াও চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।ওই নারীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল কাশেম সরদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই নারীর স্বামী হাকিম তালুকদার বাদী হয়ে আবুল কাশেমের নাম উল্লেখসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে ওসি মুনির জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আমিরন নেছা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা গ্রামে ভিক্ষা করতে যান। সকাল ১০টার দিকে ওই গ্রামের আবুল কাশেম সরদারের মেয়ে তাজমিম (২) পরিবারের অজান্তে তার পেছনে পেছনে প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য কামাল ফকিরের বাড়িতে যায়। এর কিছুক্ষণ পর শিশুর মা ঝুমুর বেগমসহ স্বজনরা শিশু তাজমিমকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে প্রতিবেশী কামাল ফকিরের বাড়িতে গিয়ে ওই নারীর পাশে বসা দেখতে পান। তখন ছেলেধরা সন্দেহে শিশুর স্বজনসহ প্রতিবেশীরা আমিরন নেছাকে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শিশুর বাবাসহ দুজন মিলে তার ডান চোখ উঠিয়ে ফেলার চেষ্টা চালায়। ওইদিন দুপুরেই গ্রামবাসী ওই নারীকে উদ্ধার করে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।