খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০০২ সালে ক্যানসার আক্রান্তদের থেরাপি দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা মূল্যের কোবাল্ট-৬০ মেশিন স্থাপন করা হয়। ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর এটি অচল হয়ে যায়। ১৩ বছরে এই মেশিন দিয়ে প্রতিমাসে গড়ে ৩০০ ক্যানসার রোগীকে ৯ হাজার বার রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। তবে মেশিনটা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন রোগীরা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না। রেডিওথেরাপি দেওয়ার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আনা নতুন ব্রাকি থেরাপির অপর একটি মেশিনও দেড় বছর ধরে হাসপাতালে বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।
এছাড়া সম্প্রতি রেডিওথেরাপি মেশিনের পাশের কক্ষে বসানো জরায়ু ক্যানসারের মেশিনটিও ঠিকমতো স্থাপন না করায় সেটিও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
মহাখালী ক্যানসার ও রিসার্চ সেন্টার হাসপাতালের সিনিয়র এক টেকনোলজিস্ট নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, দেশের বেশিরভাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেডিওথেরাপি মেশিন থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। এ কারণে মহাখালীতে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর চাপ। কিন্তু এখানে মেশিনের সংখ্যা বাড়েনি। প্রতিদিন চার হাজার রোগীর থেরাপি দেওয়ার মতো চাপ থাকে। কিন্তু সেবা পাচ্ছেন মাত্র ৫৫০ জনের মতো রোগী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোগীদের থেরাপি দিতে না পারায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ছে। যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে থাকা রেডিওথেরাপি মেশিনগুলো সচল করলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রোগীরা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না।
এদিকে জরায়ু ক্যানসার রোগ উপশমে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার-পাঁচ মাস আগে একটি থেরাপি মেশিন আনা হয়। গত তিন মাস আগে হাসপাতালের রেডিওথেরাপি কক্ষের পাশের কক্ষে মেশিনটি স্থাপন করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে স্থাপনে ত্রুটি থাকায় মেশিনটি ঠিকমতো কাজ করছে না। বিষয়টি মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করেছে। তবে আজও এ সমস্যার সমাধান করা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে হাসপাতালের এক টেকনিশিয়ান জানান, নতুন মেশিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকলে এটি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।
হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মহসীন হাওলাদার বলেন, ‘বরিশালসহ পদ্মা নদীর এপাড়ে যতগুলো হাসপাতাল রয়েছে তার কোনোটিতেই রেডিওথেরাপি মেশিন নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মানুুযায়ী ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যানসার সেন্টার থাকা দরকার। এর বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।’
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ‘নতুন থেরাপি (ব্রাকি থেরাপি) মেশিনটি বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরমাণু শক্তি কমিশন জানিয়েছে একই স্থানে দু’টি মেশিন থাকতে পারবে না। থাকলেও দেয়াল দিয়ে পার্টিশন তৈরি করে নিতে হবে। এ কারণে পরমাণু শক্তি কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললে নতুন মেশিনটি বসানো হবে।’
এছাড়া জরায়ু ক্যানসারে থেরাপি দেওয়ার মেশিনটির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।