বিক্ষোভরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের জন্য শনিবার স্কুল ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ইংরেজি শিক্ষক এনায়েত হোসেন সিনিয়র শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব রাখেন। তখন ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য শওকত আকবর ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত গার্লস গাইডের সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব দিতে বলেন। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে শিক্ষক এনায়েত জানান, এতে করে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা জুনিয়রদের মানবে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকবে। এ নিয়ে শওকত ও এনায়েতের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শওকত হাতের কাছে থাকা কাচের গ্লাস ও কাচ ভাঙা ছুড়ে মারেন। আহত এনায়েতকে তাৎক্ষণিক মেডিক্যালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই রাতে শিক্ষক এনায়েত কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনার বিচারের দাবিতে রবিবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা এবং বরিশাল-ঝালকাঠী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। আধা ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ করায় দু’প্রান্তে দীর্ঘ যানবাহনের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিভোক্ষকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রোকেয়া বেগম ও প্রধানশিক্ষক শহীদ চৌধুরী বলেন, ওই ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শওকত আকবর পদত্যাগ করেন। এছাড়া লাঞ্ছিত শিক্ষক মামলা দায়ের করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান (তদন্ত) জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাসে বিক্ষোভরতরা মহাসড়ক থেকে সরে যায়। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সদস্য শওকত আকবরকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।